মাধুরী সাহানা


ঐতিহ্য
মাধুরী সাহানা 

১লা বৈশাখ বাঙালির ঐতিহ্যবাহী আনন্দ প্রকাশের মাধ্যম । বঙ্গাব্দ শুরু হয় বৈশাখ মাসের প্রথম দিন । প্রাচীন গৌড়ের অধিপতি রাজচক্রবর্তী রাজা শশাঙ্ক বঙ্গাব্দ চালু করেছিলেন । সূর্যের বার্ষিক অবস্থানের বিচারে ঐতিহ্য মন্ডিত সৌর পঞ্জিকা ভিত্তিক বর্ষপঞ্জি ।
বারোটি নক্ষত্রের নাম অনুসারে বাংলার বারো মাসের নামকরণ করা হয়েছে । বিশাখা থেকে বৈশাখ , জ্যেষ্ঠা থেকে জৈষ্ঠ্য , উত্তরাষাঢ়া থেকে আষাঢ় , শ্রবণা থেকে শ্রাবণ , পূর্বভাদ্রপদ থেকে ভাদ্র , অশ্বিনী থেকে আশ্বিন ,
কৃত্তিকা থেকে কার্তিক , মৃগশিরা থেকে অঘ্রায়ণ , পুষ্যা থেকে পৌষ , মঘা থেকে মাঘ , উত্তরফাল্গুনী থেকে ফাল্গুন , চিত্রা থেকে চৈত্র । বরাহমিহির ভারতীয় জ্যোতিষশাস্ত্রের দিকপাল । "পঞ্চসিদ্ধান্তিকা " গ্রন্থটি জ্যোতিষশাস্ত্রের মাইলফলক ।

বঙ্গদেশের ভূমি অধিপতিগণ চৈত্র মাসের শেষ দিনের মধ্যেই খাজনা মাশুল ও শুল্ক পরিশোধ করার নিয়ম প্রচলন করেছিলেন ।  বৈশাখ মাসের প্রথম দিন নিজের প্রজাদের নিয়ে উৎসব পালন করতেন । পুরোনো বছরের হিসাব বন্ধ করে নতুন হিসেবে চালু করার জন্যে একটি জাবেদা খাতা তৈরি করা হতো । নতুন খাতায় মঙ্গলচিহ্ন তেলসিদুর দিয়ে এঁকে নতুনভাবে সাজানো হতো । ধনলক্ষী পূজো করা হতো । সেকালে মানুষের খাদ্যের কামনায় উৎসব শুরু হয়ে ছিল । চৈত্র মাস ধরে চলতে থাকে বর্ষবরণের আয়োজন । চৈত্র সংক্রান্তির দিন গাজন উৎসব উপলক্ষে বাংলা জুড়ে চড়কমেলা । শিবের পূজা উদযাপন ।

যুগ পরিবর্তন হয়েছে ব্যাখ্যা বিশ্লেষণ দৃষ্টিকোন আধুনিক হচ্ছে । প্রাণের সঙ্গে শিল্প সাহিত্য বানিজ্য যুক্ত করার প্রয়োজন হয়েছে । বাংলা নববর্ষ উপলক্ষে সর্বশ্রেনির মানুষের নাগরিক চেতনাকে স্বদেশ চৈতন্যের 
আলোকে আলোকিত করার প্রয়োজন হয়েছে । এই চেতনা কোনো গোষ্ঠীর বা কোনো সম্প্রদায়ের মধ্যে আবদ্ধ নয় ।

Post a Comment

1 Comments