ছোট গল্প
ভালোবাসা
সুমনা সেনগুপ্ত
কিছু বুঝে ওঠার আগেই মৈনাক প্রিয়াঙ্কা জোড়করে দোতলার করিডোরে নিয়ে যায়, থুড়ি কোলে করে নিয়ে যায়। প্রিয়াঙ্কা যা ভয় পেয়ে ছিল ঠিক তাই হল। আজ মৈনাক ক্ষেপেছে । আজ ও শুনেই ছাড়বে প্রিয়াঙ্কার মনের কথা।
প্রিয়াঙ্কা আর মৈনাক একই কলেজে এক সময়ে পড়লেও আজ ওরা , যতটা ঘনিষ্ঠ পথ চলার সুবাদে , কলেজে ওরা কিন্তু ততটা ঘনিষ্ট কোনোদিনই ছিল না। আর হবেই বা কি করে, প্রিয়াঙ্কা তো ওর চাইতে একটা ক্লাস উঁচুতে পড়তো। পরবর্তী সময়ে মৈনাক এমবিএ করেই একটা খুব ভালো কোম্পানি তে চাকরি পেয়ে যায়। ওদিকে প্রিয়াঙ্কা গ্রাজুয়েশন করার পরে মাস্টার্স করে বি এড করে, তারও দুবছর বাদে একটি স্কুলে চাকরি পায়।
পথ চলতে মৈনাকের সাথে দেখা, সেই থেকে ঘনিষ্টতা। কলেজ ছাড়ার পর অনেক গুলো বছর বাদে প্রথম যেদিন মৈনাক প্রিয়াঙ্কাকে দেখে, তখনই সে আনন্দে চিৎকার করে ডেকে ওঠে ," এই প্রিয়া , এই এই দিকে। অরেএই?" ওর ডাকে খালি প্রয়াঙ্কা নয়, বরং সমস্ত পথচারীরাও ঘার ঘুরিয়ে দেখে যে কে কাকে এই ভাবে ডাকলো। একটু বিব্রত প্রিয়াঙ্কা প্রথমটায় একটু থতমত খেয়ে যায়, তার পর একটু নিজেকে সামলে নিয়েই কপট রাগ দেখিয়ে মৈনাক কে বলে" তোর সাহস তো কম নয়, আমিকি তোর ছোটো? " প্রিয়া "?মানে টা কি? " মৈনাক কে দমিয়ে রাখে কার সাধ্য। ওর পাল্টা যুক্তি , কিসের দিদি, আমি দিদি ফিদি বলতে পারবোনা। আর সত্যি বলতে কি তোকে তো আমি সব সময় অন্য ভাবে দেখেছি, আজ হঠাৎ সেটা পাল্টাবো কেন? প্রিয়াঙ্কা আকাশ থেকে পরে, মানে?
মানে বোঝাতে মৈনাক মোটেও বেশি দিন সময় নষ্ট করেনি। বরং বেশ স্পষ্ট ভাবেই বুঝিয়ে দিয়েছে যে সে প্রিয়াঙ্কার প্রেমে সেই কলেজ থেকেই পাগল ছিল। আর আজ তো কোনো কথাই নেই। ধীরস্থির বুদ্ধিমতী প্রিয়াঙ্কা কিছু তেই যেন পুরো ব্যাপারটা সামলাতে পারে না, মৈনাক এত্ত অট্রাক্টিভ যে ওকে ঠিক এড়িয়েও যাওয়া যায় না।
মাত্র কয়েকদিনের মধ্যে মৈনাক প্রিয়াঙ্কা বেশ ঘনিষ্ঠ হয়ে ওঠে।প্রেমে পাগল মৈনাক মাঝে মাঝেই প্রয়াঙ্কার মনের ভাষা পড়ে উঠতে পারে না ।প্রিয়াঙ্কার মনের ভাষা যে বড় দুর্বোধ্য ঠেকে তার কাছে। তবু হেরে যাওয়ার ভয়ে সে নিজেকে সাবলীল রাখার চেষ্টা করতে ত্রুটি রাখেনা।
সময় যত যায় প্রিয়াঙ্কা ততই অনুভব করে মৈনাকের প্রতি তার দুর্ণীবার টান। মুখ ফুটে বলতে বাধোঁ বাধোঁ লাগে, বলে বলে উঠতে পারে না। মৈনাককে এত দিন ধরে অপেক্ষায় রাখাটা বোধয় ঠিক হচ্ছে না ভেবেই সে আজ মৈনাককে ডেকে আনে তাদের কলেজেরই পাশের রেস্তোরাঁএ। জায়গাটা আজকাল বেশ পলিশড হয়েছে। প্রেমিক প্রেমিকাদের জন্য আদর্শ। সেখানে যেতে হবে জানার পর থেকেই মৈনাক আত্মহারা হয়ে উঠেছে। তাই , পৌঁছেই সে প্রিয়াঙ্কাকে পাঁচকোলা করে ওপরে এনেছে প্রিয়াঙ্কার সম্মতি টুকু জানতে।
'হাঁ,'এই টুকু শব্দই তো সোনার জন্য সে এত গুলো বছর, দিন ধরে অপেক্ষা করেছে। আজ যেন মেদিনী শান্ত হলো। প্রিয়াঙ্কা মৈনাকে নিরাশ করেনি, বরং বলার পরে তার মনের যে উথাল পাথাল অবস্থা, সেটা থেমেছে।
একটা সংশয় প্রিয়াঙ্কার থেকেই যায়, সে পারবে তো মৈনাককে সুখী করতে?
গভীর ভালোবাসায় ভরিয়ে তুলতে?
নাকি তার উন্নাসিক স্বভাব যার জন্য এত দিন অবধি সে কারোর ডাকে সারাদেয়নি , সেই স্বভাবের দোষে মৈনাককেও দুঃখ পেতে হবে?
নির্বিকার মৈনাক প্রেমে মশগুল হয়ে থাকে। আজ সে ভীষণ খুশি । আজ যেন নিজেকে বড় হালকা বোধ হতে থাকে তার। প্রেমের পড়ার বোধয় এটাই মাহাত্ম, মনের সাথে শরীরটাও যেন পালকের মতো হাল্কা বোধ হয়। বহু দিনের চেষ্টার ফসল, আজ প্রিয়াঙ্কা মৈনাক এই নাম দুট যেন এক অন্য মাত্ৰা পেতে চলেছে। গাঁথা হতে চলেছে আর এক প্রেমের গাঁথা ।


4 Comments
অনিন্দ্যসুন্দর উপস্থাপনা দিদিভাই ❀
ReplyDeleteKHUB SUNDOR
ReplyDeleteচমৎকার অভিব্যক্তির বহিঃপ্রকাশ।
ReplyDeleteমুগ্ধতা রেখে গেলাম দিদিভাই।
শুধুই মুগ্ধতা
ReplyDeleteএই অস্থির পরিস্থিতিতে
এমন লেখাই দরকার