রীনা নস্কর


এক ডজন পাপড়ি 
রীনা নস্কর 
          
আজ সবুজ পাতাভরা সময়ের গাছটাতে 
একটা কুঁড়ি দেখা দিল , 
ভোরের নিস্তব্ধতায় ঘুম থেকে জেগে উঠছে সবে , 
রাগ অনুরাগ শিশিরে ভিজে 
ধীরে ধীরে পাপড়ি মেলে ধরবে 
রঙ বেরঙের আকাশের নিচে  , 
একে একে বারোটা পাপড়ি প্রস্ফুটিত হবে স্বমহিমায় 
কত না ভাঙা গড়া দেনা পাওনার মধ্যে  
নিজেকে করবে প্রকাশ । 

চারপাশের পরিবেশকে হৃদয়ঙ্গম করতে করতে 
মধ্যাহ্নের তপ্ত রৌদ্রে পৌঁছে যাবে একসময় । 
এরপর ঘাত প্রতিঘাতের মধ্যে দিয়ে যেতে যেতে 
হয়তো তার ভালোলাগা গুলো 
ফিকে হতে থাকবে । 

পরের পাতায় দেনা পাওনার হিসেব কষতে কষতে 
পৌঁছে যাবে বার্ধক্যের খেয়াঘাটে । 
তারপর ........? 
তারপর ঝরে যেতে যেতে 
একেবারে শেষ পাপড়িতে এসে পৌঁছাবে ,  
হৃদয়ে বিষাদের করুন সুর বেজে উঠবে । 
চৈতালীর ঝরা পাতার সাথে 
তার শেষ ঝরা পাপড়িটা ও উড়তে উড়তে 
চলে যাবে নিরুদ্দেশে  ! 

তারপর .......? 
তারপর উদাসী হাওয়ার গতি যাবে কমে 
শুরু হবে বৈশাখী পাতা বাহারের আগমন । 
এমনিভাবেই তো জীবনধারা 
চলে আসছে অবিরাম । 
পাওয়ার পিছনে হারাবার কালো ছায়া , 
আবার হারাতে হারাতে নিঃস্ব হয়ে যাওয়ার পর
পুনরায় ফিরে পাওয়া । 
এটাই তো প্রকৃতির নিয়ম ॥

Post a Comment

4 Comments