সুরশ্রী ঘোষ সাহা


অণুগল্প - অতিথি 
সুরশ্রী ঘোষ সাহা 

রিমলি কোনদিন বাংলাদেশ যায়নি অথচ ওদের পূর্বপুরুষ সবাই বাংলাদেশের। ছোটবেলা রিমলির বাবা ঠাকুরদার হাত ধরে কাঁটাতারের ফাঁক গলে ঢুকে পড়েছিল ভারতবর্ষে। ছোট্ট থেকে সেইসব গল্প শুনেই বড় হয়েছে রিমলি। ও জানে আজও কিছু আত্মীয় ওদেশেই আছে। ওর ঠাকুরদা খুব ভয় পেয়ে গিয়েছিল যখন দাঙ্গা বাঁধে, তড়িঘড়ি সব ছেড়ে ছুড়ে শুধু বউ ছেলে নিয়ে চলে এসেছিল ভারতে।

দেখতে দেখতে রিমলির ঠাকুরদা, এমনকি বাবাও মারা গেছে অনেক বছর হল। বাংলাদেশ থেকে একদিন ফোন আসে এই নববর্ষে বাবার খুড়তুতো ভাই মহিম কাকা আসবে রিমলির বাড়ি। নববর্ষে আসলেও আসার কারণ আনন্দের নয় খানিক দুঃখের। অনেক লড়াই করে সেখানে মহিম কাকার পরিবার থেকে গিয়েছিল কিন্তু বোমায় কাকার কানের পর্দা ফেটে যায়। বাংলাদেশের ডাক্তাররা এবার ভারতের ভেলোরে যেতে বলেছেন চিকিৎসার জন্য। 

পয়লা বৈশাখের সকালে রিমলি সাইকেল চালিয়ে বাজারে যেতে শুরু করে। আজ সে প্রথম বাংলাদেশী কাকাকে দেখবে। হঠাৎ দূর থেকে আসা এক রিক্সাকে দেখে সাইকেল থামিয়ে সে দাঁড়িয়ে পড়ে রাস্তায়। দ্যাখে সামনে রিক্সায় চেপে তার বাবা আসছে। থমকে যায় রিমলি। পাথরের মতো আটকে যায় পথে। সম্বিত ফিরলে সাইকেল ঘুরিয়ে নেয় রিক্সার পিছনে, তারপর রিক্সা থেকে ভদ্রলোককে পাড়ার মোড়ে রিমলির বাড়িরই খোঁজ নিতে দ্যাখে। রিমলি খুব জোরে সাইকেল চালিয়ে রিক্সার পাশ কাটিয়ে বাড়ি ফিরে এসে গেটের সামনে দাঁড়ায়।

পুরোপুরি বাবার মত দেখতে এই কাকার কাছে সারাদিন গল্প শোনে রিমলি আর ওর মা। পরের দিনই ভেলোরে যাওয়ার ফ্লাইট। তাই রাতে কাকা ঘুমিয়ে পড়লে রিমলির খুব ইচ্ছা হয় কাকার পাসপোর্টটা লুকিয়ে রাখতে। কারণ আর কিছুই না দেওয়ালে টাঙানো ছবির মানুষটাকে সামনে থেকে আরো কিছুদিন বেশি দেখা যাবে।


Post a Comment

4 Comments