চিত্রকল্প
একটি প্রতিচ্ছবি আঁকতে চেয়েছিলে তুমি
আমাকে সামনে বসিয়ে |
সেইমতো উপস্থিত হলাম,
সলজ্জে সামনে তোমার |
আঁচল সরিয়ে অনাবৃত করলাম নিজেকে |
বাধা দিয়েছিলে তুমি,
বলেছিলে অনাবৃত হলে
অনুভূতির বিস্তার কমে,
আবৃত হলেই কল্পনার পরিসর বাড়ে |
কল্পনায় এঁকে চললে তুমি,
নিঃশব্দে অপলক |
খানিক অভিমানে বসে রইলাম আমি,
অযুত বর্ষ ধরে সামনে তোমার |
রাতের আকাশ জেনেছে শুধু
উষ্ণতার জন্ম,মৃত্যু ঘটেছে
তোমায় ভালোবেসে কতোবার |
জমা মেঘে বৃষ্টি হয়ে গেছে
জমা বরফ গলে জল |
অবশেষে প্রতিক্ষার পরিসমাপ্তি,
সামনে ধরলে আমার প্রতিচ্ছবি |
চমকিত চোখ,কেঁপে উঠলাম,
কি জীবন্ত ,হুবহু আমি |
চোখ,নাক,কান,রোমকূপের গ্রন্থি
থেকে নাভিমূল,অবিকল এক |
এতো নিখুঁত ভাবে চাক্ষুসও কেউ
কখনো দেখেনি আমায় |
আবেগ বিহ্বল আবেশিত হয়ে
নতজানু হলাম চরণে তোমার |
গোলাপের সব লাল,সব নরম
অভিসার সিক্ত অধরে
আঙুল ছোঁয়ালে তুমি |
কাঁপা ঠোঁট,বোজা চোখ ছুঁয়ে
শরীর জুড়ে ছোপ ছোপ দংশনের বৃষ্টি |
পূরণ আমার অরণ্য ভালোবেসে
নদী হওয়ার স্বপ্ন |
পরিণত হলাম আমি,
পরিণতি পেল ভালোবাসা |
ঘুমের দেশের অস্থির তারাদের মতো
হারিয়ে গেলাম কালপুরুষের বুকে |


1 Comments
অপূর্ব
ReplyDelete