মাধুরী সাহানা



জয় বিজয়

ব্রক্ষ্মলোকে ব্রক্ষ্মা ও গায়ত্রী দেবী বিষ্ণুলোকের দোল পূর্ণিমার রাস উৎসব নিয়ে আলোচনা করছিলেন ছিলেন । এদিকে সনক বাবা মায়ের কথাবার্তায় উৎসাহিত হয়ে সনন্দন, সনাতন ও সনৎকুমারকে নিয়ে দোল পূর্ণিমার সন্ধ্যায় বিষ্ণুলোকে হাজির । তারা উৎসবে অংশগ্রহণ করবেন এই অভিপ্রায় । তাদের উৎসাহ অপরিসীম । এদিকে বিষ্ণুলোকের দ্বাররক্ষী জয় বিজয় কিছুতেই অপরিচিত কোন অতিথিকে ভেতরে প্রবেশ করতে দেবেনা । গণ্যমাণ্য অতিথিরা রং আবির নিয়ে উৎসব পালন করবে সেখানে কোন অপরিচিত কেউ যদি কোন অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটায় তাহলে দাররক্ষী হয়ে জয় বিজয়কে শ্রীবিষ্ণুর কোপের মুখে পড়তে হবে । সেটা তারা কোনো মতেই হতে দিতে পারেনা । জয় বিজয় গায়ত্রী দেবীর পুত্রদের একপ্রকার জোর করেই দরজা থেকেই ফিরিয়ে দেয় ।

গায়ত্রী দেবী অতিরিক্ত পুত্র স্নেহে  একপ্রকার স্থান কাল পাত্র বিচার না করে জয় বিজয়কে দোষী সাব্যস্ত করেন । তখন শ্রীবিষ্ণু আর কোনো উপায় না দেখে জয় বিজয়কে রক্ষা করতে তাদের মর্তে পাঠানোর ব্যবস্থা করেন । এদিকে জয় বিজয় ছিল বরুন আর স্তুতিদেবীর  প্রিয়পুত্র কলিদেবের পুত্র ।  কলিদেব ক্রদ্ধ হলেন মনে মনে । কলিদেব তার পুত্রদের প্রতি যে অন্যায় হয়েছে তার জন্য শ্রীবিষ্ণুর উপর রুষ্ট হয়ে রইলেন । কলিদেব জয় বিজয়কে মর্তে দুষ্কর্ম করতে অনুমতি দিলেন । মর্তে হিরণ্যাক্ষ এবং হিরণ্যকশিপু তাদের অত্যাচার করতে লাগলো বাধ্য হয়ে শ্রীবিষ্ণু বরাহ অবতারে হিরণ্যাক্ষকে বধ করলেন । এদিকে হিরণ্যকশিপু তার প্রচন্ড প্রতাপে মর্তে প্রলয় করতে লাগলো । উপায় না দেখে শ্রীবিষ্ণু নৃসিংহ অবতার হলেন ।

ঋষি বিশ্রবা তার তপোবনে নিকষাকে প্রেম নিবেদন করলে দেবতাগণের বিরুপ প্রতিক্রিয়া হলো । নিকষা এক অনার্য নারী । বিশ্রবা ও নিকষার পুত্র রাবন ও কুম্ভকর্ণ দুরাচারী । রামাবতারে  শ্রীবিষ্ণু রাবন ও কুম্ভকর্ণ বধ করে মর্তে শান্তি স্থাপন করলেন । কলিদেবের পুত্ররা আবার অভিশপ্ত হয়ে দ্বাপরযুগে শিশুপাল ও দন্তবক্র নামে অত্যাচারী  হয়ে অপকর্মে লিপ্ত হলে শ্রীকৃষ্ণ  তাদের নিধন করে কলঙ্ক মুক্ত হন।
কলিদেব শ্রীকৃষ্ণের কল্কি অবতারের অপেক্ষায় রয়েছেন । এই কল্কি অবতার এমন শক্তির অধিকারী হবে যে একদিকে সৃষ্টি করবে আর অন্যদিকে ধ্বংস ।

Post a Comment

0 Comments