মিলি দাস



মায়া


এমন একটা ওঠা নামা ভাঙা গড়া
মসৃন অমসৃণ,সরল কঠিন জীবনের
দুঃখ টা কি জানো তোমরা?
শুনবে তোমরা?
কথা দাও ঠাট্টা তামাশা হবে না,
কথা দাও মাথা খারাপ বলে
ওই যে ঠান্ডা কাঁচের ঘরের ভেতরে পাঠাবে না ঘন্টার পর ঘন্টা মনের তদারকি করতে,
পাগল মনে করে, খামচে কামড়ে দেব ভেবে, গল্প বলা বন্ধ করবে না,
কথা দাও মানুষ ভেবে মানুষের হ্রদয় বুঝবে,
কথা দাও এ জীবনের যত দুঃখ সব ভুলিয়ে দেবে।

শোনো তবে বলি-
এ হলো এক আজন্মকাল ধরে বয়ে আসা এ পৃথিবীর জন্য মায়া,শুধুই মায়া। 
জগতের প্রতি মায়া,প্রকৃতির প্রতি মায়া,
মানুষের জন্য মায়া,বস্তুবাদের প্রতি মায়া,
পশুপাখি থেকে জীবজন্তু
রাস্তা জল বায়ু সমাজ সংসার ,
রবীন্দ্র সংগীত ,রামপ্রসাদি,বেহাগ ভৈরবী,মল্লার ,
কথ্যক কুচিপুরী থেকে ভরতনট্যাম ,
চলচিত্র,অভিনেতা,অক্ষর ,সংলাপ,প্রতিষ্ঠা জশ খ্যাতি ,কৃষক মজুর,সর্ষে ফুলের মাঠ, জল থৈ থৈ বিল,ইছামতি, পুকুর ,ভাটি ফুল,মাধবীলতা,ভোরের শিউলি,বীরেন্দ্র কৃষ্ণ ভদ্রের মহালয়া,সহজ পাঠ,কিশলয়
আর কবিতার জন্য মায়া...
পয়ত্রিশ বছর ধরে পরিচয় হওয়া
সকলের জন্য কেবলই মায়া।
ওদের ভাষায় আমি  ভীতু ,
ওঝার ফুঁ দেওয়া জল পরা খাওয়ায়
চোখের নিচে মোটা করে কাজল পরিয়ে দেয়, আপাদমস্তক শান্তির জল ছিটিয়ে দেয় ,তখন কেবল হাসি।
আচ্ছা বলুন তো এতগুলো বছর ধরে
চিৎকার করে ছুটে বেড়ানো অসম্ভব যন্ত্রনায় দংশন হওয়া ঝিমুনি ধরা অসহ্য ব্যথার নাম শুধুই ভয়?
না না না,এ হল যুগ যুগ ধরে বেঁচে থাকার জন্য আকুতি,
আত্মা অবিনশ্বর একথা ভুল
তার  জন্য কত মিনতি।
পুনর্জন্ম বলে এত আবিষ্কার হচ্ছে
প্রিয় মানুষটির সঙ্গে কারো কি কখনো দেখা হয়েছে ?
তাহলে রবীন্দ্র নাথ কোথায়?
আইনস্টাইন কোথায়?
দিব্যা ভারতী কোথায়?
ইন্দিরা গান্ধী কোথায়?
কোথায় আমার মা?
বলো তোমরা কোথায় ওরা।
দেখতে পাচ্ছি না,ছুঁতে পারছি না,ধরতে পারছি না।
বুঝতে পারছেন যন্ত্রনাটা ঠিক কোথায়?
মৃত্যু নয়- কখনোই মৃত্যুর সঙ্গে সাক্ষাৎ নয় ,
শুধু জনম জনম ভোর বেঁচে থাকা
যৌবন আঁকড়ে রেখে বার্ধক্যে না পৌঁছনোর মায়া
কেবলই এ জীবনের জন্য মায়া।
একটি অনুরোধ
পারবে কি পৃথিবী আমায় বাঁচিয়ে রাখতে?

Post a Comment

0 Comments