কেয়ার অফ ফুটপাত
ভারতী দাস
ফাগুন মাস সবে শেষ হয়েছে। ফুরিয়ে যাওয়া দোল উৎসবের রেশ ফিকে হয়ে গেছে পথের ধুলোর থেকে।
তবে স্টেশনের পাশের কৃষ্ণচূড়া গাছটা ফুলের লালিমায় অপরূপ।
বড় রাস্তার পাশের বাসস্ট্যান্ডে দখল নিয়েছে ওরা। সারা সকাল খালি পড়ে থাকে, রাত বাড়লেই ফিরে আসে আস্তানায়!
সম্পত্তি বলতে খান কতক টিনের বাসন, আর কয়েক জোড়া আধময়লা কাপড়।
আর আছে দুটো অশক্ত শরীর, দীর্ঘদিনের অযত্ন প্রতি টা শিরায়-উপ শিরায়।তবু বেঁচে আছে একদিন মরবে বলে।
তনু- অনু এক অফিসেই কর্মরতা। ওরা যমজ। তন্বী, সুশ্রী। ছোট থেকেই একটু ব্যাতিক্রমী। ছেলেদের পোশাক ছাড়া গায়ে তোলে না কিছুই। মানুষের বিপদ আপদে মানেনা রাত। অবসরে মোটরবাইক নিয়ে বেড়িয়ে পরে অজানার টানে।
বাবা - মা গত হবার পর জীবনটা একঘেয়ে লাগছিল ওদের। মোটা টাকার মাইনের বেশীর ভাগটা পড়ে থাকতো ব্যাঙ্কে।
এমন কাউকে চাই জীবনে, যাকে সব দিয়ে দেবে। অনেক ভেবে অক্ষয় কে ঘরে নিয়ে এলো। ছোট্ট শিশু টাকে কেউ ফেলে দিয়েছিল নর্দমায়। তবে কাঠ খড় ভালোই পোড়াতে হয়েছে, অভিভাবকত্ব পাওয়ার জন্য।
সময় পেরিয়েছে........
দুধের শিশু এখন বিদেশে থাকে। পাকাপাকি ভাবে ওখানেই থাকবে। তাই বসত বাড়ি বিক্রি করে তনু-অনু র নতুন ঠিকানা বৃদ্ধাশ্রম।
অক্ষয় এর সাথে যোগাযোগ ক্রমে ক্ষীণ হতে থাকে। অর্থাভাবে ঠিকানা হয় ফুটপাত।
সন্ধ্যা হয়ে আসছে.......
রোজের মতো দুজন এসে দখল করবে বাসস্ট্যান্ড, নতুন ঠিকানা এখন ওদের "কেয়ার অফ ফুটপাত"।


3 Comments
দারুণ
ReplyDeleteভয়ঙ্কর ভবিষ্যৎ...
ReplyDeleteঅপূর্ব কলম
ভালোলাগা একরাশ।শুভেচছা রইলো নববর্ষে।
ReplyDelete