মনোনীতা চক্রবর্তী
১.
সমস্ত আমার কথাগুলোকে মিথ্যে প্রতিপন্ন করার যে-কৌশল এঁকে চলেছো, তাতে একটা শুধু মরা আগুন আছে।
বাহারি শিস-মহল এখন একটা মাছি-ছাপ ইট-কাঠের বাসি-গল্প।
২.
উৎসমুখ খুলে গেলে আসলে বেরিয়ে আসে যাবতীয় হিল-স্টেশন এবং একটা প্রকাণ্ড আয়না...
৩.
এইমাত্র, বিপ-আওয়াজে জানান দিল অকথিত শব্দের লেখচিত্র...
রেইকি-পদ্ধতি চোখ রেখেছে যত স্নায়ু-পথ এবং আওড়ে চলেছে সুনীল গাঙ্গুলি।
৪.
হিলকার্ট রোড থেকে যে-রাস্তাটা লেফট-রাইট করতে-করতে সামরিক ছাউনিতে এসে মিশেছে, সেখানেই
রাখা হল ছদ্মনাম। বেশ ঘটা করে। আমরা গাইলাম সমবেত সঙ্গীত- "তোমারই নামে নয়ন মেলিনু..." প্রভাত পুণ্য না পাপী, সে-বিচারের কোনও দায় বা অধিকার কোনোটাই নেই আমার। শুধু আরও একটা অধ্যায়ের অংশীদার হলাম।
৫. বিতর্কিত উপন্যাস থেকে মুখ ঘুরিয়ে চোখ রাখলাম উড়ানের সময়সূচির দিকে। হাতে আর এক ঘন্টাও সময় নেই। না, কোনও অপেক্ষা-টপেক্ষা নেই। হেডফোন কানে লাগিয়ে টপ্পায় মন ডুবিয়েছি।
৬. ও-বাড়িটা কেমন থমথমে! সবাই যেন সবার মতো নেই! দরজা-জানালা সব বন্ধ। ঋণের চাপ? নাঃ, তা-ও নয়। ঘরময় স্যাঁতস্যাঁতে গন্ধ! বিকট একটা শোক যেন! তবে কি সমস্ত কবিতারা সেই উপন্যাসের পাতায় জড়ো হচ্ছে? তা-ও না। ও বাড়িতে কেউ আর কথা বলে না। টু-শব্দও করে না। সব পাথর-মুখ।
আমার ফিরতে আর মাত্র আধ-ঘণ্টা বাকি। আমার বেরোনোর মুখে কেউ জানালো যে গত পাঁচদিন আগে তিন বছরের মিনিকে তার মায়ের প্রেমিক ফাঁকা বাড়িতে ধর্ষণ করে...
তারপর থেকেই...
এরপর, আর আমার ফেরা হয়নি। সমস্ত জীবনের যাবতীয় 'আধ-ঘণ্টা' আমি এক চুমুকে শেষ করি। তারপর, আমার সমস্ত নারী-চিহ্ন আমি রেখে আসি মিনিকে শোয়ানো মাটির কাছে। এরপর, আর কখনও কোনও ছদ্মনামের উৎসবে যাইনি...


2 Comments
অপূর্ব ধারণা
ReplyDeleteদারুণ
ReplyDelete