কাজী নজরুল ইসলামই বাংলাদেশের প্রথম স্বপ্নদ্রষ্টা
কাজী নজরুল ইসলাম বাংলাদেশের জাতীয় কবি। কেননা একমাত্র কাজী নজরুল ইসলামের কবিতাতেই সঠিক এবং পরিপূর্ণভাবে বিধৃত হয়েছে বাংলাদেশের মাটি ও মানুষের কথা। ধর্ম বর্ণ নির্বিশেষে সব মানুষের জীবনালেখ্য। কাজী নজরুল ইসলামই বাংলা সাহিত্যে একমাত্র বটবৃক্ষ যার ছায়াতলে আশ্রয় পায় ইতর প্রাণী থেকে শুরু করে সকল স্তরের মানুষ। নজরুল সাহিত্যে যে বাংলাদেশীদের জীবনচরিত পূর্ণাঙ্গরূপ পেয়েছে তা কিন্তু হলফ করেই বলা যায়।
যে সময়ে কিছু ভদ্র লোক মনে করতেন যে, বাঙালীরা গেঁয়ো, ভেতো, মাথা মোটা, আনকালচার্ড এবং অপাঙ্তেয়। তাদেরকে অমানুষ বলে অবজ্ঞা করতেও ছাড়েনি কেউ কেউ। ঠিক সেই সময়ে কাজী নজরুল ইসলাম বাঙালীদেরকে বীরের জাতি বলে আখ্যা দিলেন। তাদেরকে শক্তি-সাহস নিয়ে মাথা উঁচু করে দাঁড়ানোর আহবান জানালেন। লিখলেন মাথা উঁচু করার অমর বাণী -
চির উন্নত মম শির
শির নেহারী আমারই নত শির
ওই শিখর হিমাদ্রির
বল বীর
বল উন্নত মম শির।
অবাক ব্যপার ব্রিটিশ দুঃশাসনের প্রচন্ড শৈত্য প্রবাহে যখন থর থর করে কাঁপছে সারা ভারতীয় উপমহাদেশ, ঠিক সেই সময়ে বীরের বেশে বাঙ্গালী জাতীর পক্ষে বুক উঁচিয়ে দাঁড়িয়ে গেলেন কাজী নজরুল ইসলাম। ঘন অমানিশা ঠেলে ভোরের পাখি হয়ে গেয়ে উঠলেন ঘুম জাগানো গান –
আমরা যদি না জাগি মা কেমনে সকাল হবে?
তোমার ছেলে উঠলে গো মা রাত পোহাবে তবে।
---------------------------------------------
ঝর্ণা মাসী বলবে হাসি- খোকন এলি নাকি?
বলব আমি- নই তো খকন , ঘুম জাগানো পাখি।
তাই তো কাজী নজরুল ইসলাম বাংলাদেশের জাতীয় কবি। শুধু তাই নয়, বাংলাদেশীদের প্রাণপুরুষের ন্যায় তিনিই প্রথম দেখেছিলেন স্বাধীন বাংলাদেশের স্বপ্ন এবং বাংলাদেশ নামটাও তাঁর কলমেই বিধৃত হয়েছিল সর্বপ্রথম। আসুন এবার সেদিকেই দৃষ্টি ফেরানো যাক।
সব দেশের জাতীয় কবিরা সে দেশের মাটি, মানুষ, প্রকৃতি, নিজস্ব ইতিহাস-ঐতিহ্য ও সংস্কৃতির চিত্রকর, সেই সাথে এই সব বিষয়ের তাঁরা রূপকারও বটে। স্বদেশের সাহিত্য-সংস্কৃতি, নৈসর্গিক সৌন্দর্য, স্বাধীনতা-স্বার্বভৌমত্ব ইত্যাদির জন্য যেমন একজন জাতীয় কবির মনে মমতা থাকে, ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে দেশের সব মানুষের জন্যও তেমন ভালবাসা থাকে তাঁর মনে। মাটি ও মানুষের সুখে যেমন হাসেন কবি, দুঃখেও তেমনি ব্যথিত হন তিনি। এমনকি তাঁর প্রজ্ঞা-শক্তি দিয়ে এবং অনুভূতির মায়াবী অনুরণন দিয়ে তিনি বুঝতে পারেন মানুষের কষ্ট। মানুষের ব্যথায় স্বয়ং কবিও হয়ে ওঠেন ব্যথিত। আমেরিকার জাতীয় কবি ওয়াল্ট হুইটম্যান যেমনটি লিখেছেন –
I do not ask the wounded person - how he feels
I myself become wounded
(আহত ব্যক্তিকে জিজ্ঞেস করি না আমি
কেমন লাগছে তার; বরং নিজেই আহত হয়ে পড়ি আমি।)
আর স্বদেশের কল্যাণই একজন জাতীয় কবির ধর্ম। দেশের কল্যাণের জন্য আন্দোলন করা, জেল জুলুম সহ্য করা, এমনকি জীবন বাজি রাখতেও ভয় পান না একজন জাতীয় কবি।
আমাদের জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামও তো সেই স্বপ্নময়ী জাতীয় কবিরই প্রতিভূ। নজরুলকে যিনি খুব কাছে থেকে দেখেছেন, নজরুলকে ব্রিটিশ আমলে ১৯২৯ সালের ১৫ ডিসেম্বর কলকাতার এলবার্ট হলে যে সংবর্ধনার মাধ্যমে প্রথম জাতীয় কবি হিসেবে বরণ করে নেয়া হয়েছিল, সেই সংবর্ধনা কমিটির অন্যতম সদস্য, সাংবাদিক ও সাহিত্যিক আবুল কালাম শামসুদ্দিন ১৯২৬ সালে মাসিক সওসগাত পত্রিকায় লিখেছিলনে-
“নজরুল ইসলাম বাংলার জাতীয় কবি। জাতীর বেদনা ব্যথাই তাঁহার কাব্যের ভিতর দিয়া প্রকাশ পাইতেছে। হিন্দু ও মুসলমান লইয়া বাঙালী জাতি। সুতরাং এ জাতীর বেদনার কথা প্রকাশ করিতে হইলে রচনায় ইসলামী ও হিন্দুয়ানী উভয় জাতীর প্রকাশ ভঙ্গিরই ছাপ থাকিতে হইবে।“
আর নজরুল তো লিখেছেন-
হিন্দু না মুসলিম ওরা
ওই জিজ্ঞাসে কোন্ জন?
বল কাঁদিতেছে সন্তান মোর মার।
১৯২৯ সালের সেই সংবর্ধনার জবাবে কাজী নজরুল ইসলাম বলেছিলেন- “কেউ বলেন, আমার বাণী যবন, কেউ বলেন কাফের, আমি বলি- ও দু’টোর কোনটিই নয়, আমি মাত্র হিন্দু মুসলমানকে এক জায়গায় ধরে এনে হ্যান্ডশেক করাবার চেষ্টা করেছি। গালাগালিকে গলাগলিতে পরিণত করার চেষ্টা করেছি। সে হাতে হাত মিলানো যদি হাতাহাতির চেয়েও অশোভন হয়ে থাকে, তাহলে ওরা আপনিই আলাদা হয়ে যাবে। আমার গাঁট-ছড়ার বাঁধন কাটতে তাদের কোন বেগ পেতে হবে না।”
এমনিভাবে কাজী নজরুল ইসলাম এই উপমহাদেশের সকল সম্প্রদায়ের মধ্যে সম্প্রীতি ও সৌহার্দ বজায় রাখার জন্য যেমন আপ্রাণ চেষ্টা করেছেন, তেমনি সকল সম্প্রদায়কে একত্র করে আধিপত্যবাদী ব্রিটিশ বেনিয়াদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করে দেশকে স্বাধীন করার স্বপ্নও দেখেছেন কবি। ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে বাঙালী মাত্রই এই মাটি-মায়ের সন্তান - এ সত্যই তাঁর কাছে ছিল বড় এবং সবার জন্য সেই সত্যকে বিশ্বাসে পরিণত করতেই আপ্রাণ লড়াই করে গেছেন কাজী নজরুল ইসলাম। তাঁর এ লড়াই ছিল সাহিত্য-সংস্কৃতির চর্চায়, ছিল রাজনীতির চর্চায়। স্বদেশীকতার ভূবনে স্বাধীন বাঙালী জাতি প্রতিষ্ঠায় লড়াকু সৈনিক নজরুল এখানে কোন ধরনের ছাড় দিতে ছিলেন না রাজি। তাই তো নজরুল সংবর্ধনা আয়োজক কমিটির আরেকজন নেতা নেতাজী সুভাষচন্দ্র বসু সেই সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে দ্ব্যর্থহীন কন্ঠে বলেছিলেন- আমরা যখন যুদ্ধে যাব তখন সেখানে নজরুলের গান গাওয়া হবে। আমরা যখন কারাগারে যাব তখনও তাঁর গান গাইব। কবি নজরুল যে স্বপ্ন দেখেছেন সেটা শুধু তার নিজের স্বপ্ন নয়, সমগ্র বাঙালী জাতির স্বপ্ন।
কিসের স্বপ্ন দেখেছিলেন কাজী নজরুল ইসলাম? তাঁর স্বপ্ন ছিল স্বাধীনতার স্বপ্ন। পরাধীনতার শৃঙ্খল ছিন্ন করার স্বপ্ন। তাঁর গান সমগ্র জাতিকে ঐক্যবদ্ধ করার গান। নজরুল মনে করতেন বাঙালী জাতির সম্প্রদায়গত ঐক্য স্বাধীনতার পূর্ব শর্ত। তাই তো তাঁর গান জ্বলে ওঠার গান। বিস্ময়ের ব্যাপার এই যে, দীর্ঘকাল পরে স্বাধীন বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার লড়াইয়ে বিস্তর গাওয়া হয়েছে তাঁর উদ্দীপক গান। গাওয়া হয়েছে তার রণসঙ্গীত -
চল্ চল্ চল্
উর্ধ্ব গগনে বাজে মাদল
নিম্নে উতলা ধরণী তল
অরুণ প্রাতের তরুণ দল
চল্ রে চল্ রে চল্
চল্ চল্ চল্ ॥
শুধু তাই নয়, বাংলাদেশের স্বাধীনতা আন্দোলনের পুরোধা, স্বাধীন বাংলাদেশের মহান স্থপতি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান নাকি নজরুলের কবিতা থেকেই স্বাধীনতা আন্দোলনের মূলমন্ত্র, তাঁদের দলীয় প্রধান স্লোগান – ‘জয় বাংলা’-কে গ্রহন করেছিলেন। স্বাধীনতা আন্দোলনে নজরুলের অনেক প্রেরণাদায়ক কবিতাও করা হয়েছে আবৃত্তি। নজরুল হয়ে উঠেছিলেন তরুণদের জন্য জাতীয় প্রেরণার উৎস। বাংলাদেশের স্বাধীনতা আন্দোলনে নজরুল যেমন আমাদের প্রেরণা ছিলেন, তেমনি একটি সুখী সমৃদ্ধ দেশও কল্পনা করেছিলেন তিনি। ১৩০১ সালের ২০শে পৌষ তিনি লিখেছিলেন-
স্বাগত বঙ্গে মুক্তিকাম।
সুপ্ত বঙ্গে জাগুক আবার লুপ্ত স্বাধীন সপ্তগ্রাম।
তাঁর সেই “লুপ্ত স্বাধীন সপ্তগ্রাম” সত্যি সত্যিই জেগেছে ১৯৭১ সালে। তাঁর আকাঙ্খার বীরের জাতি সত্যি সত্যিই মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়েছে। নজরুলের “লুপ্ত স্বাধীন সপ্তগ্রামের” নাম কী হবে - তা নিয়েও কবি করেছিলেন ভবিষ্যৎ বাণী।
সবাই জানেন ব্রিটিশ আমলে বা তারও আগে আমাদের এই দেশের নাম বাংলাদেশ ছিল না। ব্রিটিশ আমলে আমাদের এই ভূখন্ডের নাম ছিল বঙ্গদেশ, - ইংরেজীতে বলা হত বেঙ্গল। বেঙ্গলকে কেউ কেউ বাংলাও বলতেন। বেঙ্গলের পূর্ব অংশকে বলা হতো পূর্ববঙ্গ আর পশ্চিম অংশকে বলা হতো পশ্চিম বঙ্গ। ১৯৪৭ সালে ভারত পাকিস্তান ভাগ হয়ে গেলে পশ্চিমবঙ্গ হয় ভারতের একটি প্রদেশ, আর পূর্ববঙ্গ হয় পূর্ব পাকিস্তান। ১৯৩৯ সালে “পূর্ববঙ্গ” নামে একটি গানই লিখেছিলেন কাজী নজরুল ইসলাম।
গানটির কয়েকটি পঙক্তি এ রকমঃ-
পদ্মা মেঘনা-বুড়িগঙ্গা বিধৌত পূর্ব দিগন্তে
তরুণ অরুণ বীনা বাজে তিমির বিভাবরী অন্তে
ব্রহ্মা মুহূর্তের সেই পূর্বাণী
জাগায় সুপ্ত প্রাণ, জাগায় নব চেতনা-দানী
সেই সঞ্জীবনী বাণী শক্তি তার ছড়ায়
পশ্চিমে সুদূর অনন্তে।
ঊর্মি ছন্দা শত নদী স্রোত ধারায় নিত্য পবিত্র
সিমান শুদ্ধ পূরব বঙ্গ
ঘন বন কুন্তলা প্রকৃতির বক্ষে সরল সৌম্য
শক্তি প্রবুদ্ধ পুরব বঙ্গ।
স্বাধীনতার পূর্বে অনকে কবি সাহিত্যিকই স্বদেশপ্রেমমূলক কবিতা লিখেছেন। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর এদেশের নাম লিখেছেন “সোনার বাংলা” জীবনান্দ দাস লিখেছেন “রূপসী বাংলা”। কাজী নজরুল ইসলাম কিন্তু এ দেশের নাম বলেছিলেন “বাংলাদেশ।“ ১৯৩৯ সালের “পূরব বঙ্গ” বলার আগে ১৯৩১ সালেও বাংলাদেশর প্রশস্তি লিখেছিলেন তাঁর গানেঃ-
নমঃ নমঃ নমো বাংলাদেশ মম
চির মনোরম চির মধুর
বুকে নিরবধি বহে কত নদী
চরণে জলাধার বাজের নূপুর।
এরও পূর্বে ১৯২৪ সালে কাজী নজরুল লিখেছিলেন একটি ইসলামী গান-
দূর আরবের স্বপন দেখি বাংলাদেশের কুটির হতে
বেহঁশ হয়ে চলেছি যেন কেঁদে কেঁদে কাবার পথে।
কী আবেগ! কী অনুভূতি! সেই তখনও সুদূর আরবের স্বপন তিনি দেখেছিলেন তাঁর স্বদেশ থেকে, যার নাম তিনি দিয়েছিলেন ‘বাংলাদেশ’। কাবার প্রতি তাঁর ভক্তি ও শ্রদ্ধা যেমন প্রকাশ পেয়েছে, তেমনি তাঁর স্বদেশের নাম এবং তাঁর বসবাসের স্থান ও তাঁর কুটিরের কথাও তিনি ব্যক্ত করেছেন তাঁর এই গানে।
চির মনোরম দেশের জন্য যেমন চিত্ত বিনোদিত হয়েছে কাজী নজরুল ইসলামের, তেমনি ব্রিটিশ শোষণে দরিদ্র হওয়া বাংলাদেশের জন্যও আফসোস করেছেন তিনি তাঁর ‘বাংলাদেশ’ কবিতায়। তিনি লিখেছেনঃ
সেই আমাদের বাংলাদেশ
রাজরানী আর ভিখারিনী
কাঁদছে বলে লুটিয়ে কেশ ॥
মুক্ত ধারা সেই নদী আজ মন্দগতি বন্ধনে,
সুনীল আকাশ অশ্রু মলিন নিপীড়িতের ক্রন্দনে।
ধূলায় ছিল সোনার রেনু ঘরে ঘরে সুখ-বিলাস
নিশ্বাসিয়া ফিরছে হেথা চাঁদ কেদারের দীর্ঘশ্বাস ॥
স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশের বহু পূর্বেই কাজী নজরুল ইসলাম বাংলাদেশের সৌন্দর্যময় রূপচিত্র তুলে ধরার পাশাপাশি নদী বিধৌত এ দেশের দারিদ্রপীড়িত জনগণের দুরাবস্থার চিত্র অঙ্কন করেছেন উক্ত রূপে।
শুধু ব্রিটিশ বেনিয়ারাই এ দেশকে শোষণ করেনি। ইতিহাস সাক্ষ্য দেয়- কেবল বাংলাকে শোষণ করেই অনেক দিন ভারতবর্ষে পুষ্ট হয়ে উঠেছিল মোঘলরা, পাঠানরা। বোধ করি, তারই স্বীকৃতি মেলে বিংশ শতাব্দীর সূচনা লগ্নে রাজনীতিবিদ আচার্য প্রফূল্ল চন্দ্রের লেখায়। তিনি লিখেছেন- “বিহার বিহারীদের, উড়িষ্যা উড়িয়াদের, আসাম আসামীদের, পাঞ্জাব পাঞ্জাবীদের কিন্তু বাংলা সকলের”।
বাঙালীরা বড় পরমার্থিক জাতি। বাংলার পথেঘাটে ছড়িয়ে ছিল ঐশ্বর্য। তার মাঠের ধান,পাট, রবিশস্য, তার সোনা, তামা, লোহা, কয়লা- তার সর্ব ঐশ্বর্য্য ডাকাতি করে নিয়ে গেছে বিদেশী দস্যু ডাকাতেরা- কিন্তু সে বাংলা প্রতিবাদ করতে পারেনি, প্রতিরোধ করতে পারেনি, শুধু দেখেছে বসে বসে। কিন্তু দেশপ্রেমিক নজরুল সহ্য করতে পারেননি তা। তাই তো ১৯৪১ সালের এপ্রিল (১৩৪৯ সালে ৩রা বৈশাখ) মাসে “দৈনিক নবযুগের” ‘বাঙালীর বাংলা’ নামের উপসম্পাদকীয়তে তিনি লিখেছিলেন- বাঙালীকে বাঙালীর ছেলেমেয়েকে ছেলেবেলা থেকেই শুধু এই এক মন্ত্র শেখাওঃ
এই পবিত্র বাংলাদেশ
বাঙালীর, আমাদের,
দিয়া প্রহারেন ধনঞ্জয়
তাড়াব আমরা করি না ভয়
যত পরদেশী দস্যু ডাকাত
রামাদের গামাদের।
বাঙলা বাঙালীর হোক!
বাঙলার জয় হোক!
বাঙালীর হয় হোক!
এমনিভাবে জীবনের নানান ক্ষেত্রে সময়ের নানান বাঁকে বাঁকে কাজী নজরুল ইসলাম স্বাধীন বাংলাদেশ হওয়ার পূর্বেই বাংলা অঞ্চলকে “বাংলাদেশ” বলে অভিহিত করেন। স্বাধীনতার প্রায় চল্লিশ বছর আগেই কাজী নজরুল ইসলাম একটি স্বাধীন সার্বভৌম রাষ্ট্রের স্বপ্ন দেখেছিলেন, যার নামও তিনি দিয়েছিলেন- বাংলাদেশ। অর্থাৎ যেই স্বাধীন দেশটির জন্য আমরা গর্ববোধ করি, যে দেশ আমাদের অহংকার, আমাদের মাথা উঁচু করে চলার চারণক্ষেত্র, সেই বাংলাদেশের প্রথম স্বপ্নদ্রষ্টা হলেন আমাদের জাতীয় বীর, বাঙালী জাতি-সত্ত্বার প্রাণের স্পন্দন, বাংলা সাহিত্যের স্বনামধন্য দিকপাল কাজী নজরুল ইসলাম।


5 Comments
তাই তিনি "বিদ্রোহী কবি" হয়ে চিরকাল বেঁচে রবেন বাঙালী হৃদয়ে। খুব উপভোগ করলাম ভাই,ধন্যবাদ।
ReplyDeleteতাই তিনি "বিদ্রোহী কবি" রূপে অমর থাকবেন বাঙালী হৃদয়ে,ধন্যবাদ ভাই।
ReplyDeleteঅসাধারণ লিখলেন"
ReplyDeleteবিদ্রোহী কবিকে নিজের কলমে সুন্দর করে গেঁথে নিলেন প্রিয় কবি ।
ReplyDeleteখুব ভালো লাগলো ।
ReplyDelete