পদ্মনাভ ঘোষ

শুভ বিবাহ
পদ্মনাভ ঘোষ 


তার মানে আমাদের ব্যাচেলর গ্রুপ থেকে আরও একজন শহীদ হচ্ছে! আচ্ছা রঞ্জন, তোকে বিয়ে টা কী করতেই হবে? আমাদের কে কী আর সহ্য করতে পারছিস না?হস্ত শিল্প ছেড়ে কুটির শিল্পে কী নাম টা না লেখালেই নই !
এই তো আমাদের স্নেহাশিষ কে দেখ, আগে কেমন ছিল আর এখন কেমন হয়েছে! যে ছেলেটা দশটার আগে ঘুম থেকে উঠত না, আমরা ডাক দিলে যে পাঁচ মিনিট বলে এক ঘন্টা পরে এসে হাজির হতো....সে কিনা সকাল সকাল হাতে ব্যাগ নিয়ে বাজার যাচ্ছে, মাছ কিনতে যেয়ে দরাদরি করছে, ভাবতে পারছিস! এই আমাদের সেই স্নেহ..... সব ছেলেরা বিয়ের পর গাঁধা হয়ে যাই, বুঝলি? আর তাদের বউ হচ্ছে তাদের মালকিন। নিজের ইচ্ছে মতো নাকে দড়ি দিয়ে ঘোরায়।
 এবার একটু বিরক্তি স্বরেই রঞ্জন বলল, " তুই বা বিয়ে টা করছিস না কেন? বয়স তো আর কম হলো না! নাকী তুইও বাকীদের মতো চল্লিশ বছরের ভুঁড়িওয়ালা কাকুদের মতো একটা কচি মেয়েকে ফাঁসাবি ভেবেছিস? "
   সিগারেট টা হাতে নিয়ে তিতাস বলল, বিয়ে আর আমি ! অসম্ভব । আমি আর প্রেম টা হলো এক চুম্বকের একই মেরু, ছোটোবেলায় পড়িসনি? চুম্বকের একই মেরু পরস্পরকে বিকর্ষণ করে.... একদম সেম জিনিস। আর তাছাড়া বিয়ে করে কে কটা মহান কাজ করেছে?
আমাদের মুখ্যমন্ত্রী সে সিঙ্গেল, আমাদের প্রধানমন্ত্রী সেও সিঙ্গেল and I feel proud I am also single। নিজের জীবন টাকে চোখের সামনে এভাবে শেষ হতে দেখতে পারব না ভাই, ক্ষমা কর।
  " এই স্নেহ, ওর জন্য আর পেগ বানাস না, ওর নেশা হয়ে গেছে.... শালা মাল টা বলে কী ! প্রধানমন্ত্রী, মুখ্যমন্ত্রী.... তিতাস তুই আর খাস না ভাই, বাড়ি ফিরতে পারবি না। "
  না আমি ঠিক আছি, আমি একদম ঠিক আছি।
  " সব মাতাল রা এই একই কথা বলে, ' আমি ঠিক আছি ' তুই বাড়ি চল। "
 যাবো না বা* , কী করবি?
  " এই স্নেহ, তুই দেখ ভাই। আমার দ্বারা একে সামলানো হবে না। "
 আরে শোন শোন আমার নেশা হয়নি। দেখ বিয়ে টা সমস্যা নই, আসল ব্যাপার টা হচ্ছে, ঠিকঠাক মনের মতো মেয়ে আজকাল পাবো কোথায় ? আর দেখাশোনো করে বিয়ে তো একদমই নই। প্রথম প্রথম বেশ লাগবে, তারপর সেই appear , extra marriage life relation ..... ধর রঞ্জন, তুই কাজের ফাঁকে বাইরে, আর তোর বউ বাড়ী তে এখানে রাসলীলা চালু করে দিয়েছে..... একবার ভাব কেমন লাগবে?
  " তোর মতো হারামির মুখেই একথা মানাই । বোকাচ* আর কিছুদিন পর আমার বিয়ে... কোথায় একটু ভালো ভালো কথা বলবি, একটু ভালো সাজেশন দিবি, তা না.... তুই তো বিয়ের আগেই আমার ডিভোর্স করিয়ে দিবি।  "
 এই স্নেহ রঞ্জন সাজেশন চাইছে, তোর টেস্ট পেপার টা থেকে একটু সাজেশন দে তো। 
 এবারে একটু মুখ খুলল স্নেহাশিষ, দেখ রঞ্জন ফুলশয্যার রাতে লাইট নিভাবি না, লাইট জ্বেলে সব কিছু করবি, তাহলে স্পষ্ট দেখতে পাবি। এতদিন তো শুধু পাঁচ ইঞ্চির ফোনে দেখে এসেছিস, এবার সামনে থেকে লাইভ দেখবি। আর শোন শুরুতেই মালগাড়ির স্পিড ধরবি না, লোকাল ট্রেনের মতো আস্তে আস্তে এগোবি।
  " তোরা সবকটাই হারামি..... আমার ফুলশয্যার খাট অবধি পৌঁছে গেছিস! আরে চুত্যিয়া দের দল আমিও যে এখন পর্যন্ত এসব কিছু  ভাবিনি। আর আমি সেক্স করার জন্য বিয়ে করছি না... It's real love । "
 তুই তো আমাদের থেকেও মহাচুত্যিয়া রে.... আবে শোন পৃথিবী তে রিয়েল লাভ বলে কিসছু হয় না বন্ধু , সবই মায়া! বুঝলি?
" তোদের সাথে মুখ খারাপ করতে চাই না, আমি চললাম। আর তাছাড়া এত রাত অবধি বাড়ির বাইরে থাকলে আমাকে মুন বকে... "
পিঠে হাত চাপড়ে তিতাস বলল, ও বাবা! ফার্স্ট নাম ছেড়ে নিক নামে পৌঁছে গেছিস, কেরি অন ব্রো, ভালোই এগোচ্ছিস।
  " আমি উঠলাম। স্মেহাশিষ, তিতাস কে সাবধানে বাড়ি পৌঁছে দিস, আর বাইক টা তুই চালাবি, মনে থাকে যেন ।  "

  "  এই যে লাস্টলাহেব ক'টা বাজে খেয়াল আছে? উফ কী গন্ধ! আজকেও মদ গিলে এসছিস! একটুও লজ্জা করে না ? আমাদের কথা ছেড়েই দিলাম, বাড়ি তে যে একটা  বয়স্ক মানুষ আছে তার কথা টা ভেবে অন্তত.... কিছু বললেই তো বলবি, নিজের টাকাই খাচ্ছি। দেখ, তোকে আর কিচ্ছু বলব না, যা খুশি তাই কর। "
  আচ্ছা মা , তোমাকে এই ঘরে কে বউ করে এনেছে বলো তো! আমার বাবার মতো একটা নিরীহ মানুষের বউ হিসাবে তোমাকে একদম মানায় না। তোমার হিটলারের বউ হওয়া উচিত ছিল মাই ডিয়ার মাদার ইন্ডিয়া। 
  " মা কে মাদার ইন্ডিয়া! তুই বেরো, বেরো ঘর থেকে....চুপচাপ ঘুমোবি যা। তোর মতো কুলাঙ্গের সাথে আর কথা বলতে ইচ্ছে করছে না। "

  " গুড মর্নিং, দাদুভাই। কালকে মা এর সাথে কী নিয়ে হচ্ছিল? "
 আর কী নিয়ে.... যা হবার। আর কী বলল জানো? তোমার কথা ভেবে জেনো আমার ব্যচেলার লাইফ টার স্রাধ্য করি।
কী দাদু, বলব নাকী ? আমার প্যান্টের পকেট থেকে সিগারেট গুলো কে নিয়ে পালাই!
 " ছেড়ে দে ভাই.... অনেক বছর ধরে তোর ঠাম্মি কে সামলে ছিলাম , তারপর তোর মা। ক্ষমা কর, আমি চললুম। "
      " এই যে নবাব পুত্র , ঘুম ভেঙেছে? অফিস টা কে যাবে শুনি? কালকে নেশার ঘোরে আমাকে কী বলেছিস মনে আছে? মাদার ইন্ডিয়া, হিটলারের বউ... "
  তুমিও তো আমাকে কুলাঙ্গার বলেছো, আমি কী কিছু বলেছি?
" ওরে শয়তান, সব মনে আছে! তাড়াতাড়ি ওঠ, অফিসের দেরী হচ্ছে। "
 আজকে অফিস যেতে ভালো লাগছে না মা, আজকে তোমার কোলে মাথা রেখে আরেকটু ঘুমাবো, কতদিন ঘুমোয়নি বলো তো !
  " আর আমার কোলে ঘুমোতে হবে না , যে নতুন আসছে তার কোলে ঘুমোস... তখন এই মানুষ টা পুরোনো না হয়ে গেলে হই !  "
 নতুন মানে !  কী বলতে চাইছো তুমি ?
  " আজকে অফিস থেকে তাড়াতাড়ি  ফিরিস, একটা মেয়ে দেখতে যাব, আমরা সবাই দেখে এসেছি, আমাদের খুব পছন্দ। এবার শুধু তোর পছন্দ হলেই.... ধুমধাম করে ছেলের বউ আনব। এই, আমিও কিন্তু একটা বেনারসী পরব। "
   না, না, দাঁড়াও দাঁড়াও । ওইসব বিয়ে টিয়ে হচ্ছে না... আর দেখাশোনা করে বিয়ে! আমার কী মাথা খারাপ না পাগল কুকুরে কামড়েছে !

" দেখ , তোর বাবার সাথে আমার দেখাশোনা করেই বিয়ে হয়েছিল।  আর চল্লিশ বছর ধরে একইরকম ভাবে সংসার করছি, তাই আট-ভাট বকে লাভ নেই। তবে তোর কোনো মেয়েকে পছন্দ থাকলে বলতে পারিস , তবে সেটাও তো তোর দ্বারা হবে না। তাই আজ বিকেলে মেয়েও দেখতে যাচ্ছিস আর বিয়েটাও তুই করছিস, so no more excuse । "
  একটা কাজ করো মা, তুমি বরং বাবার জন্য আরেক টা মেয়ে খোঁজো, বাবার যা লুক আছে..... এখনো দুবার বিয়ে দেওয়া যাবে, তাহলে তখন তুমি আর তোমার সতীন মিলে সংসার সামলাবে , আইডিয়া টা কেমন বলো?
   " তুই না সত্যি একটা কুলাঙ্গার, বেয়াদপ ছেলে একটা। বাবার বিয়ে দেবার কথা বলছে....."
  বাচ্চা দের মতো ঠোঁট ফুলিয়ে তিতাস বলল, আমি বিয়ে করব না। 
 " তা আর করবি কেন? আমি যতদিন বেঁচে আছি, ততদিন দু'হাতে করে খা, তারপর না হয় চার হাতে করে খাস। সব বন্ধু রা এক এক করে সংসারী হয়ে যাচ্ছে আর উনি এখনও বাউণ্ডুলে হয়ে দিন কাটাচ্ছে! বাবা, আপনি একটু বোঝান না..... "
   " শোন দাদুভাই, মেয়ে টা একবার দেখেই আয়। আহা! দেখলেই তো আর বিয়ে হচ্ছে না, আর বিয়ে টা হচ্ছে দিল্লী কা লাড্ডু, খেলেও পচতাবি, আর না খেলেও পচতাবি। তবে একবার খেয়ে  দেখতে দোষ কোথায়!  "
 
"  কী রে , এত দেরী হলো? ওখানে সবাই ওয়েট করছে, তাড়াতাড়ি রেডি হও। "
 কলকাতার যা ট্রাফিক জানো না নাকী?
 " হয়েছে হয়েছে, এবার তাড়াতাড়ি যা। "

  গাড়ীর হর্ণ পেয়ে একজন মাঝবয়সি ভদ্রলোক বেরিয়ে এলেন, ইনিই হলেন মেয়ের বাবা, দিব্যেন্দু পুরকায়েত। একটু আপ্যায়নের সুরে বললেন, আসুন আসুন পরিমল বাবু, আসতে কোনো অসুবিধা হয়নি তো?
 " এই দেখুন, একদম ফরমালিটি করবেন না, প্লিজ। আমরা সমবয়সি, তাই নাম ধরেই ডাকবেন, এইসব বাবু টাবু নই। একটা সম্পর্কের শুরু তো চেনা নাম গুলোর থেকেই শুরু হয়।
এত মিষ্টি.... না দিব্যেন্দু, আগে আমরা লগ্নজিতার সাথে কথা বলব, তারপর মিষ্টিমুখ। "

  লগ্নজিতা ! নাম টা কানে পৌঁছাল তিতাসের। হলোই বা বছর তিরিশের, ওরও তো কিছু স্বপ্ন আছে, ও তো মনে মনে একটা নারীর ছবি কল্পনা করে। আচ্ছা লগ্নজিতাও কী ওর ঠাকুমার ছোটোবেলার গল্পের রাজকুমারের রাজকন্যার মতো.... কেমন হবে মেয়েটা! মনের মধ্যে অনেক কিছুই চলছে , হঠাৎ করেই কোথা থেকে এক দক্ষিণা বাতাস যেন ওর তিরিশের বসন্ত কে ছুঁয়ে বেরিয়ে গেল। একটা হলদেটে শাড়ী পরেছে মেয়েটা, কপালে একটা কালো টিপ, আচ্ছা সুন্দরী কী একেই বলে..... খোলা চুল, গালে একখানি টোল পড়া মিষ্টি হাসি, ঠোঁটের কোনে লজ্জার অনুভূতি। তিতাস সবদিনই খোলামেলা , বন্ধু-বান্ধবী কারোর সাথে ইগো না রেখেই কথা বলতে পছন্দ করে। কিন্তু তিরিশের দ্বোর গড়ায় এসেও মনের মত মেয়ে না পাওয়াই সিঙ্গেলের তকমা টা এখনও মেটেনি। সামনে যে মেয়ে টা বসে আছে তার সাথে আজকে একটু যেন বেশী কথা বলতে ইচ্ছে করছে! মনের মধ্যে কোথাও যেন একটা কথা বারবার উঁকি মারছে, লগ্নজিতার সাথে  সম্পর্ক টা শুধু বন্ধুত্বের হবে না হয়তো বন্ধুত্বের থেকেও আরও বেশী কিছু । তিতাস কিছু বলতে যাবে এমন সময় পরিমল বলল, " মা, এত লজ্জা পাওয়ার কিছু নেই। আমাদের সবাই কে নিজের বলেই ভাবতে পারো। আমাদের ফ্যামিলির এই ক'জন , তোমার কী কিছু জিজ্ঞাসা আছে ? বা তিতাসের সাথে আলাদা করে কথা বলতে চাও? "
  ভাবতেই পারছে না তিতাস, যেটা মনের মধ্যে চলছিল, কিন্তু ভেবে পাচ্ছিল না কী ভাবে বলবে! বাবা সেই রাস্তা টা করে দিল। তিতাস ভাবছে, আজ কে বাড়ি যেয়ে বাবার পা ধুয়ে জল খাবে। তিতাস উঠতে যাবে এমন সময় লগ্নজিতা বলল,  " আপনারাও কী আর বাকী সবার মতন আমাকে দেখে, মিষ্টি জল খেয়ে বেরিয়ে যাবেন ? "
 পরিবেশ টা হঠাৎ থমথমে। সবাই নিশ্চুপ, দিব্যেন্দু আর ওনার স্ত্রী তাকিয়ে আছে মেয়ের দিকে, এ কেমন কথা? কাউকে কী এরকম ভাবে জিজ্ঞেস করা উচিত? লজ্জায় নীল হয়ে দাঁড়িয়ে রয়েছে লগ্নজিতার বাবা মা।
 হঠাৎ নীরবতা ভেঙে তিতাসের বাবা, হো হো করে হেঁসে উঠলেন। বললেন, " কেন, কত জন আমার হবু বউমা কে রিজেক্ট করেছে? "
  মাথা টা নীচু করে, আঙুল গুলো চেপে লগ্নজিতা উত্তর দিল, " না মানে , আমদের মধ্যবিত্ত পরিবার। তাই সবকিছু তে একটা ফিনানসিয়াল ফ্যাক্টর থাকে। বিশাল পরিমাণে যৌতুক দেওয়ার সামর্থ্য নেই। "

 " কিন্তু মা , আমরা ছেলের বিয়ে দিচ্ছি বাড়ী তে একটা মেয়ে আনব বলে । বাড়ীর কাজ করার জন্য বা ফার-ফরমায়েশ খাটার জন্য নই। আসলে কী জানো তো? আমাদের খুব ইচ্ছে ছিল বাড়ী তে একটা মেয়ে আসুক। তার সব আবদার আমরা পূরণ করব, কিন্তু এই একটা বাঁদর ছেলে কে সামলাতে গিয়ে, আর সাহস হয়ে উঠেনি। এবার তোমার যদি আপত্তি না থাকে, আমাদের কে তোমার যদি ভালো লাগে, তাহলে এই বাঁদর ছেলেটাকে মানুষ করার দায়িত্ব তোমার হাতে তুলে দিতে পারি। কী নেবে তো? "
  সবার অলক্ষ্যে চোখের কোণে জল টা মুছছে লগ্নজিতা।  ' আমার ইচ্ছে ! ' , কই কোনোদিনও কেউ জিজ্ঞেস করেনি তো!
 এবার একটু বিরক্তি স্বরেই তিতাস বলল,  " আমি কী কিছু বলতে পারি? না, না, আমাকে এখানে আনা হয়েছে কেন? আমাকে এখানে এনে বাঁদর বলে অপমান করা ! মা আমি বাড়ি যাব।
 মা বলল,  " ঠিকই তো, তোর বাবা একদম ঠিক করেনি। ছোটোবেলায় তোর বাবা হয়তো পড়েনি, কানা কে কানা বলতে নেই, খোঁড়া কে খোঁড়া বলতে নেই, তোর বাবা ভুল করে বলে ফেলেছে। " সবার হাসির আওয়াজে পরিবেশ টা যেন আবার প্রাণ ফিরে পেল।
এতক্ষণে ছাড়পত্র পাই তিতাস। বাবা বলল, " আচ্ছা বেশ , তোরা যা , ততক্ষণ আমরা একটু কথা বলি। "
   
 আচ্ছা তিতাসের কী শরীর খারাপ করছে! না হঠাৎ করেই হার্টবিট কেমন বেড়ে গেল। দূরত্ব টা আস্তে আস্তে কমে আসছে, গলা টা শুকিয়ে যাচ্ছে, এতক্ষণ ধরে এত কথা ভাবছিল, কিন্তু এখন কোনো কথা খুঁজে পাচ্ছে না কেন! কী বলবে ভেবে না পেয়ে বলল,  876823.... এটা আমার হোয়াটস আপ নম্বর ম্যাসেজ করতে পারো । বলে দিয়েই ঝড়ের গতিতে বেরিয়ে গেল।
           গাড়ি তে আসতে আসতে বাবা বলল,  " কী রে মেয়ে টা কেমন লাগল? "
  তিতাস বোধ হয় এই প্রথম বার কোনো বিষয়ে লজ্জা পেল, ভাবল আর বেশী ঘুরানো ঠিক হবে না, হ্যাঁ বলে দেওয়াই ভালো। তবে মনের ইচ্ছে টাকে চেপে রেখে বলল, এত তাড়াতাড়ি কী কাউকে চেনা যায়? আমার একটু সময় লাগবে , আমাদের দুজন দুজনকে আরেকটু জানা দরকার।
রাতে ফোন টা নিয়ে ঘাটছে তিতাস। একটু বোধ হয় বোকা বোকার মতো নম্বর টা দিয়ে ফেলল, আবার ওকে তুমি বলে সম্বোধন! বন্ধুরা ঠিকই বলে, আমি সত্যিই একটা বোকাচ*।   সাড়ে দশাটার ম্যাসেজ টাতে হুঁশ ফিরল তিতাসের " কী ঘুমিয়ে পড়েছো? " । হার্টবিট বোধ হয় আবার নব্বই ছুঁয়েছে। ম্যাসেজের রিপ্লাই না করে ডাইরেক্ট ফোন করল তিতাস।
   কী করছো?
 " এই তো এই খেয়ে এলাম। তোমার ডিনার হয়ে গেছে? "
  হ্যাঁ, এই একটু আগে করলাম।
কিছুক্ষন ফোনের দুপারেই নীরবতা, শোনা যাচ্ছে বলতে দুদিকের ঘন ঘন নিশ্বাস। একটু লজ্জা পেয়ে তিতাস বলল, এই প্রথম বার কোনো মেয়ের সাথে এত রাতে ফোনে কথা বলছি।
" আমারও প্রথম বার.... "

বলা উচিত হবে কী না , এইসব ভাবতে ভাবতে একটু ভয়ে তিতাস বলেই ফেলল, বলছি আমাদের কথা বার্তা তো সেরকম কিছু হয়নি, তাই বলছিলাম মানে..... আমরা কী কালকে দেখা করতে পারি?
এত তাড়াতাড়ি যে লগ্নজিতা রাজি হয়ে যাবে, সেটা হয়তো তিতাস কল্পনাই করতে পারেনি। হয়তো লগ্নজিতারও ওর সাথে দেখা করার ইচ্ছে টা আছে.... শুধু প্রকাশ করতে পারেনি। মেয়েরা বোধ হয় এরকমই হয়! মনের ইচ্ছে গুলো কে সহজে প্রকাশ করতে পারে না।
শুনেছি, গঙ্গার ঘাট কাপেল দের জন্য আদর্শ জায়গা। তাহলে কাল বিকেলে গঙ্গার ঘাট.........

একটা সবুজ রঙের শালোয়ার কামিজ পরে অপেক্ষা করছে লগ্নজিতা। পিছন থেকে হাঁপাতে হাঁপাতে তিতাস বলল, সরি সরি একটু লেট হয়ে গেল, যা ট্রাফিক.....
  " তা কলকাতার রাস্তা কী এতই খারাপ ! যে সবদিন ট্রাফিক জ্যাম থাকে.... না, তোমার মায়ের কাছ থেকে শুনছিলাম, তোমার হিসট্রি টা। "
বা বা ! এর মধ্যে মা-এর সাথে আমার নিয়ে কথাও বলা হয়ে গেছে ! তিতাস ভেবেছিল , হয়তো ও ই এডভান্স কিন্তু না..... হেলমেট টা মাঝখানে রেখে বসল তিতাস। আড়চোখে দেখল, লগ্নজিতাও ওর দিকেও ঠিক আড়চোখে তাকাচ্ছে। কী বলে কথা শুরু করবে একদম ভেবে পাচ্ছে না.... আচ্ছা গার্লফ্রেন্ড বয়ফ্রেন্ড প্রেম করার সময় এত কথা পাই কোথা থেকে ! ও কোন খান থেকে শুরু করবে! একবার চোখাচুখি, উভয়ের ঠোঁটের কোণে মৃদু হাসি। লগ্নজিতা এবার নীরবতা ভেঙে বলল, " আজকাল দাড়ি রাখা টা কী ছেলেদের ফ্যাশন হয়েছে? "
একটু লজ্জা পেয়ে তিতাস বলল,  না না, ওই আর কী..... তবে তোমার পছন্দ না হলে সেভ করে নেব। 
 " কেন আমি কে? যে আমি বললে সেভ করে নেবে! "
 একটা ঢিল দিয়ে মাটিতে আঁকিবুকি কাটছে তিতাস। বলতে ইচ্ছে করছিল ঠাকুমার গল্পের রাজকন্যা, কিন্তু কালকের দিনের কথা ভেবে চুপ করে রইল।
  " দিনে কটা করে সিগারেট খাওয়া হয়? ঠোঁট গুলো তো একদম কালো হয়ে গেছে।  "
একের পর এক প্রশ্নবানে জর্জরিত। অসহায় দৃষ্টিতে মাটির দিকে তাকিয়ে আছে। লগ্নজিতার জায়গায় যদি কোনো ছেলে থাকত..... খিস্তি মেরে তার চোদ্দ গুষ্টি উদ্ধার করে দিত হয়তো।
  " এরকম ভাবে চুপ করে বসে থাকার জন্য কী আমাকে ডেকেছো? কিছুই তো বলছো না!
 আচ্ছা চুপ করে বসে না থেকে একটা কাজ করো, একটা সিগারেট ধরিয়ে আমাকে দাও তো.... "
  অবাক হয়ে তাকিয়ে আছে তিতাস। তুমি স্মোক করো?
 " একদমই না, তবে ওই জিনিস টার প্রতি আমার একটা আকর্ষণ আছে। অনেকদিনের ইচ্ছে জানো তো, আমার যে হাবি হবে, তার সাথে কাউন্টার শেয়ার করব। তবে শুধুমাত্র তার সাথেই। "
 একটু অবাক হয়েছে ঠিকই, তবে আনন্দে আত্মহারা। কারণ লগ্নজিতা তিতাস কে হাবি বলে একসেপ্ট করেছে। তার মানে লগ্নজিতারও তিতাস কে পছন্দ।
সিগারেটে একটা টান মেরে লগ্নজিতা বলল, " দেখো আমি একটা শর্তেই তোমাকে বিয়ে করতে পারি। বিয়ের পরে আমাকে বাবু, পুচু, সোনা, জানু এইসব নাম ধরে ডাকা চলবে না । আমার বান্ধবী গুলো যখন তাদের বয়ফ্রেন্ড দের ওইসব নামে ডাকে..... জাস্ট ন্যাকামি গুলো নিতে পারি না। 
 এই তোমার কী হয়েছে বলো তো ? নিজেই তো ডাকলে কথা বলার জন্য, আর এখন চুপ করে কেন? আমি তো একাই বকে যাচ্ছি ! জল লাগবে ? "
  একবার ঢোক গিলে, বুকের মধ্যে সাহস এনে তিতাস বলল , তোমার নাম টা খুব সুন্দর। আচ্ছা তোমার কী রঙ পছন্দ?
 লগ্নজিতা হাসতে হাসতে বলল,  " তুমি না সত্যি ব্যাকডেটেড, এইসব এখন পুরোনো হয়ে গেছে নতুন কিছু ট্রাই করো। "
 জানো তো, আমি না অন্যের হাত দেখে ভবিষ্যৎ বলে দিতে পারি, আমি একটু আধটু অ্যাস্ট্রোলজিও করি বটে।
 " তাহলে আমার হাত টা দেখে কিছু বলো.... দেখি তুমি কেমন অ্যাস্ট্রোলজার! "
 তোমার হাত বলছে, তোমার যে বর হবে, সে খুব শান্ত, লাজুক আর তোমার সব কথা মেনে চলবে, সকালের ব্রেকফাস্ট থেকে শুরু করে রাতের ডিনার অবধি সে একাই বানিয়ে ফেলতে পারে  আর উইকেন্ডে তোমাকে নিয়ে লঙ ড্রাইভ, একদম তোমার মনের মতন। 
 " তা মিস্টার অ্যস্ট্রোলজার, মেয়েদের যে বাম হাত দেখতে হয়, সেটুকুও জানেন না বোধ হয় ? আর আপনি কী না অন্যের ভবিষ্যত বলেন !  তা বললেই পারতে, আমার হাত টা ধরতে ইচ্ছে করছে, আমি কী বারণ....."
  দূরত্ব টা ক্রমশ কমে আসছে, তিরিশের বসন্তের একটা মেয়েলী হাতের নরম স্পর্শ, তিতাস যেন একটু শিউরে উঠল। লগ্নজিতারও এই প্রথমবার, কলেজে অনেক ছেলে প্রপোজ করলেও..... ওই যে মনের মতন কাউকে পাইনি বলে তিতাসের মতো সে'ও সিঙ্গেল। একটা পুরুষ হাতের ছোঁয়া.... লজ্জায় লাল হয়েছে লগ্নজিতা। দুজনে তাকিয়ে আছে গঙ্গার ঘাটের দিকে, কত স্টিমার, লঞ্চ পেরিয়ে যাচ্ছে.....দুটো চোখ নতুন স্বপ্ন বুনতে ব্যস্ত । তিতাস বলল, লগ্নজিতা, তোমার সিগারেটের কাউন্টারে আমাকে ভাগীদার করবে লাইফ টাইমের জন্য?
 চোখ নামিয়ে মৃদু হাসির স্বরে বলল,  " যদি আগলে রাখো.... তো থেকে যাব। "
 পাশ থেকে মুখ ঘুরিয়ে তিতাস বলল, আচ্ছা ওই ছেলে টা কী আমাদের ফলো করছে? না, তখন থেকে দেখছি এইখানেই বসে আছে, আর আমাদের দিকে মাঝে মাঝে তাকাচ্ছে।
 একটু ভালো করে দেখে লগ্নজিতা চিনতে পারল ছেলে টাকে।  ইউনিভার্সিটি তে পড়ার সময় প্রপোজাল টা পেয়ে ছিল, কিন্তু একসেপ্ট করেনি। তারপর অনেক বার চেষ্টা করলেও লগ্নজিতা আর পাত্তা দেইনি। ভাবছিল তিতাস কে সত্যি টা বলবে কী না.... তার আগেই তিতাস বলল, তা অবশ্য তোমার মতন সুন্দরী মেয়ের পিছনে দু চারটে ছেলে দের ঘোরা অস্বাভাবিক কিছু নই।
 " ভাট বকো না তো...... "
 চলো এবার সন্ধ্যে হচ্ছে। বাড়ি ফিরতে হবে....

     প্রায় একমাস এভাবেই চলেছিল ওদের দেখা সাক্ষাৎ। দুই পরিবারের সম্মতিতে বিয়ের তারিখ ঠিক হয়েছে, আগামী একুশে মাঘ ওদের বিয়ে।
রাত্রে ফোনে লগ্নজিতা বলল, " তিতাস তোমার কাছে আমার একটা আবদার আছে..... তুমি যখন আমাকে সিঁদুর পরাবে, তখন সিঁদুর টা যেন আমার নাকের উপর পড়ে..... শুনেছি, তাতে ম্যারেজ লাইফ খুব সুখের হয় আর দুজনের ভালোবাসার গভীরতা টাও বোঝা যায়। "
  এভাবে কী কারো ভালোবাসা মাপা যায়? কবি কী বলেছে জানো তো...... " যার ভালোবাসা যত গভীর, তার প্রকাশ তত কম " । ভালোবাসা হলো একটা অনুভূতি, যেটা কে শুধু অনুভব করা যাই। আজকাল কার ভালোবাসা গুলো সব লোক দেখানো, ফেসবুক, হোয়াটস অ্যাপের স্ট্যাস্টাসের মধ্যে সীমাবদ্ধ । আমি চাই না, আমাদের ভালোবাসা টা লোক দেখানো হোক। আমি চাই তোমার সব সুখ, দুঃখ-কষ্টের ভাগীদার হতে....তোমার কোনো বিষয়ে মন খারাপ হলে পারে কিছু বলার আগেই বুকের মধ্যে তোমাকে জড়িয়ে নেব......তবে কোনোদিনও ভালোবাসি বলে বলব না, ঠিক এভাবেই তোমার পাশে সারাজীবন থাকতে চাই ।

   অবশেষে দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর আজকে চার হাত এক হবার দিন, গঙ্গার ধারে ওদের দেখা স্বপ্ন গুলোর সত্যি হবার দিন।  বিয়ের পীড়ি তে বসে তিতাস আনমনে নিজের উপরই হাসছে... যে ছেলে টা সব বন্ধু দের এডভাইস দিতো যে, এরেঞ্জ ম্যারেজ বলে কিছু হয় না.... আর তার বিয়ে টাই আজকে দেখাশোনা করে হয়েছে, আর শুধু বিয়ে নই মেয়েটার সাথে যথারীতি প্রেম পর্বও চলেছে... ছোটোবেলায় ঠাকুমার মুখে শোনা কথা টা  আজকে ঠিক বলে মনে হচ্ছে, জন্ম-মৃত্যু-বিয়ে এগুলো কারও হাতেই থাকে না। দুটো পরিবার উপস্থিত, নিমন্ত্রিত অনেক লোকই এসেছে... সত্যি এই সময়ের অনুভূতি টাকে হয়তো কোনো ভাষা বা কোনো শব্দই প্রকাশ করতে পারবে না.....
 এত ভীড়ের মধ্যেও তিতাসের নজর পড়ল একটা ছেলের দিকে । একটু ঘাবড়ে যেয়ে তিতাস লগ্নজিতার কানে কানে বলল, দেখো লগ্নজিতা, সেদিন বিকেলে গঙ্গার ধারে দেখা সেই ছেলে টা না!
 লগ্নজিতা মুখ তুলে একবার দেখল। হ্যাঁ সেই ছেলে টাই তো.... বিয়ের নিমন্ত্রণ বা ফ্রেন্ডদের মধ্যে থেকে তো ওকে ইনভাইট করা হয়নি, তাহলে!
 ছেলে টা ঠিক ওর দিকেই এগোচ্ছে.....হাতে একটা গিফ্টের মতো কোনো কিছু। হঠাৎ লগ্নজিতার খুব জোরে চিৎকার...... সবাই তখন ভীড় জমিয়েছে, লগ্নজিতার মুখের একপাশ টা পুড়ে গেছে । ছেলে টাকে সবাই ঘিরে ধরেছে, তবু ছেলে টা তখনও বলে চলেছে,  " দেখলে তো.... আমাকে রিজেক্ট করার কী শাস্তি! ভালোই তো বেসে ছিলাম তোমাকে। তুমি যদি আমার না হও , তাহলে কারো হবে না, আর কারো না...... "
  লগ্নজিতা যন্ত্রণায় তখনও ছটপট করছে। অ্যাসিডে মুখের অনেকটা অংশই পুড়ে গেছে। একটা আনন্দ ঘন মুহুর্ত এক নিমেষে শোকে পরিণত হলো। সব কিছু তেই বিষন্নতার ছায়া। কিছু স্বপ্ন হয়তো স্বপ্নই থেকে গেল !
   হসপিটালে এডমিট করা হয়েছে লগ্নজিতা কে.... বাহাত্তর ঘন্টা পর ডাক্তার বাবু র কাছ থেকে খবর এল, আউট অফ ডেঞ্জার, কিন্তু শরীরের আপার পার্টের অনেক টা অংশই পুড়ে গেছে।
লগ্নজিতার জ্ঞান ফিরেছে, ভালো মতো ট্রিটমেন্ট পাওয়াই  আগের তুলনায় একটু সুস্থ। চোখ খুলতেই সামনে লাগানো কাঁচ টাতে নিজের মুখ টা দেখে ভয়ে , আতঙ্কে আবারও চিৎকার করে উঠল। পাশ থেকে সেই চেনা স্পর্শটার ছোঁয়া। মুখ ফিরাতে দেখল পাশে দাঁড়িয়ে রয়েছে তিতাস। কান্নায় ভেঙে পড়েছে লগ্নজিতা। বলল, " তুমি চলে যাও তিতাস, আমার কোনো সহানুভূতির দরকার নেই, তুমি চলে যাও...... "
 হাল্কা মৃদু স্বরে তিতাস বলল,  শান্ত হও লগ্নজিতা। আমরা সবাই তোমার পাশে আছি।
 " বললাম না চলে যাও, আমার কোনো সহানুভূতির দরকার নেই।  "
 হাত টা চেপে তিতাস বলল,  কী করে যাই বলো তো! আমাদের বিয়ে টা যে এখনও সম্পূর্ণ হয়নি......
 " বিয়ে! একটা অ্যাসিড ভিক্টিম মেয়েকে তুমি বিয়ে করতে চাও? সমাজে আমাকে নিয়ে বেরোতে পারবে ? এখনও সময় আছে  তিতাস, একটা মেয়ে লগ্নভ্রষ্টা হলে অনেক কিছু আসে যায়, কিন্তু ছেলের লগ্ন পেরিয়ে গেলে কোনো ক্ষতি হয় না । তাই বলছি, নতুন ভাবে সব কিছু শুরু করো। "
 
 সমাজ তো আমাকে ভালোবাসতে শেখাই নি লগ্নজিতা.... তাই কে কী বলল তাতে আমার কিছু যায় আসে না । আর এইটা সহানুভূতি নই , তোমাকে ভালোবাসি যে..... তাই ছোট্ট একটা ঘটনা কী আমাদের ভালোবাসা টাকে পাল্টে দিতে পারে ! আমি তোমাকে ভালোবাসি লগ্নজিতা, তোমার শরীর কে নই। তাই তোমার শরীরের ক্ষত চিহ্ন গুলো আমার ভালোবাসা তে কোনো প্রভাব ফেলতে পারবে না। তোমার হাত টা তো দুদিনের জন্য ধরিনি...সারা জীবন আগলে রাখার জন্য ধরেছি। 
   " কিন্তু তোমার পরিবার..... "
 পাশ থেকে তিতাসের মা বলল, প্রথম দিন আমরা তোমাকে কী বলেছিলাম মনে আছে ? তোমাকে আমরা ছেলের বউ নই, বাড়ির মেয়ে করে আনব বলেছিলাম। আর আজকে যদি আমার মেয়ের এরকম অবস্থা হতো, তাকে কী আমরা এভাবে ফেলে রেখে চলে যেতাম!
    দুচোখ দিয়ে জল গড়িয়ে পড়ছে লগ্নজিতার। কাছের মানুষ গুলোর ভালোবাসা কী সত্যি এরকমই হয়! সবই যেন স্বপ্নের মতো মনে হচ্ছে ওর......
 তিতাস বলল , ডাক্তারের সাথে কথা হয়েছে, বলেছে এখন আর ভাইরাস ইনফেকশেনের কোনো ভয় নেই। লগ্ন পেরিয়ে গেছে.....কিন্তু তুমি জানো ভালোবাসা সব ধর্ম শাস্ত্রের উপরে, তাই এবার তুমি যদি চাও এখানেই তোমাকে নিজের করে নিতে পারি।
 কৌটো টা বের করে, লগ্নজিতার কপালে সিঁদুর পরিয়ে দিচ্ছে তিতাস। দুই পরিবারেরই চোখে জল। সিনেমা নই বাস্তব। সব কিছুর উর্ধ্বে জয়ী হয়েছে ওদের ভালোবাসার। কিছু ভালোবাসা এরকমও হই, যেখানে কারো রূপ দেখে নই, শরীর দেখে নই,  মানি ব্যাগ ভর্তি টাকা দেখে নই, ভালোবাসা হয় আপন খেয়ালে, দুটো মনের মিলনে ।
   সাক্ষী থাকল হাসপাতালের ঘর গুলো, সাক্ষী থাকল সমস্ত অ্যাসিডে পুড়ে যাওয়া মেয়ে গুলো...... সিঁদুর টা তো আজকে ছিল উপলক্ষ্য মাত্র, সবশেষে জয়ী হলো ভালোবাসার। সম্পন্ন হলো তিতাস আর লগ্নজিতার শুভ বিবাহ।
 লগ্নজিতা তিতাস কে জড়িয়ে ধরে তখনও কাঁদছে, তিতাস কানে কানে বলল, সিঁদুর টা নাকের উপর ঠিক ঠাক পড়েছে বলেই তো মনে হল ।।

   সমাপ্ত

Post a Comment

2 Comments

  1. অসামান্য প্রকাশ একরাশ মুগ্ধতা

    ReplyDelete