অমিত কুমার জানা
আমি তখন কেমিস্ট্রি অনার্সের দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র। মেদিনীপুর শহরের স্বস্তিক মেসে থাকি। সেদিন কোন একটা অধ্যায় নিয়ে বিষদ পড়াশোনা করতে গিয়ে বেশ রাত করে ঘুমিয়েছিলাম। সকালে যখন ঘুম ভাঙলো ঘড়ির দিকে তাকিয়ে দেখলাম নয়টা বেজে গেছে। খুব দ্রুততার সঙ্গে সকালের কাজকর্ম সেরে স্নান করে অর্ধচর্বিত খাবার গলাধঃকরণ করে দৌড়ে গেলাম বাসস্ট্যান্ডে। কলেজে যাওয়ার জন্য খড়্গপুরগামী বাসে উঠে পড়লাম। মনে মনে ভাবলাম যা দেরি হয়েছে আজ বোধহয় প্রাকটিক্যাল ক্লাসটা মিস করবো। বাসের ভেতরে চতুর্দিকে দৃষ্টিনিক্ষেপ করলাম। কিন্তু কোন বন্ধুকেই দেখতে পেলাম না। ভাবলাম, আজ যা দেরি হয়েছে ওরা সবাই অনেক আগেই কলেজে পৌঁছে গেছে। বাসে তিন -চারটে কলেজ ছাত্রী মেদিনীপুর থেকে টিউশন পড়ে বাড়ি ফিরছিল। কনডাকটর ওদের ভাড়া চাইল। ওরা হাফ ভাড়া 'তিন টাকা' করে দিচ্ছিল। তখনই কনডাকটর ভীষণ ক্ষেপে গিয়ে বললো,-" আজ রবিবারও হাফ ভাড়ায় যাবে নাকি? মামাবাড়ির বাস পেয়েছ?"
এরপর ওদের মধ্যে তুমুল ঝগড়া শুরু হলো। আর আমার মনের মধ্যে শুরু হলো আফসোসের ঝড়। আজ রবিবারেও আমি কলেজ চলে এসেছি? বন্ধুরা শুনলে ব্যাপারটাকে কলেজে একেবারে হট্নিউজ বানিয়ে দেবে! এইসব ভাবতে ভাবতে কলেজের সামনে নেমে পড়লাম এবং এক-দুই মিনিটের মধ্যে মেদিনীপুর গামী বাসে চড়ে পুনরায় মেসে ফিরে এলাম। ফিরে এসে দেখলাম আমার রুমমেট সবার প্রিয় পরমদা ভাত খাচ্ছে। ও আমাকে জিজ্ঞেস করলো,-" কি অমিত কোথা থেকে আসা হলো? "
বললাম-"কলেজ থেকে" ।
--"কলেজ থেকে! ও হেসেই লুটোপুটি খেল। তারপর বললো, তুমি কি আমাকে এপ্রিল ফুল করছো নাকি? আজ এপ্রিলের এক তারিখ তো। ভালো প্রচেষ্টা। কিন্তু তুমি ভাই সফল হতে পারলে না।"
কি অদ্ভুত আজ যে এপ্রিলের এক তারিখ সেটাও আমার মাথায় নেই!
আমি অতঃপর বললাম,-"না না এপ্রিল ফুল করছি না, আমি সত্যিই আজ কলেজে গিয়েছিলাম। আর সেজন্য নিজের প্রতি যা রাগ হচ্ছে না!"
পরমদা আবার হো হো করে হেসে উঠলো। তারপর বললো,-" আরে ভাই রবিবারও তোমার কলেজ খোলা থাকে তাহলে। সত্যি সত্যি বলতে পারতে গার্লফ্রেন্ডের সাথে দেখা করতে গিয়েছিলে। তা না করে---"
আমি পরমদাকে সেদিন সত্যিটা সত্যিই বোঝাতে পারিনি। কেননা, এপ্রিলের এক তারিখ কার না এপ্রিল ফুল হওয়ার ভয় থাকে?


1 Comments
অসামান্য বললে কম বলা হবে
ReplyDeleteশুধুই মুগ্ধতা