নববর্ষ বিষয়ক
শ্রীমতি কৃষ্ণা ঘোষ
" নিশি অবসান ,ওই পুরাতন বর্ষ হলো গত
আমি আজি ধূলিতলে এ জীর্ণ জীবন করিলাম নত
বন্ধু হও ,শত্রু হও ,যেখানে যে কেহ রও
ক্ষমা করো আজিকার মতো
পুরাতন বছরের সাথে ,পুরাতন অপরাধ যত "۔۔۔۔۔( রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর )
আকবরের সময়কাল থেকেই পহেলা বৈশাখ বা নববর্ষের উদযাপন শুরু হয় l সেইসময় এটি ছিল খাজনা আদায়ের উৎসব l পরে অবশ্য এটি জাতীয় উৎসবের রূপ নেয় l
"এসো হে বৈশাখ এসো এসো " গানের মাধ্যমে বর্ষবরণ উৎসবের সূচনা সূচনা হয় l সকল স্তরের বাঙালি নিজ নিজ সামর্থ্য অনুযায়ী বছরের প্রথম দিনটিকে উদযাপন করে l
আকবরের সময়কাল থেকেই হালখাতা প্রচলিত l পহেলা বৈশাখ বা নববর্ষ কেবল একটি উৎসব নয় l বরং মানুষে মানুষে ভেদাভেদ ভুলিয়ে উদজীবিত করে একান্তই মানবতাবোধে l
"বর্ষ হয়ে আসে শেষ ,
দিন হয়ে এলো সমাপন ,
চৈত্র অবসান ۔۔۔۔۔۔গাহিতে চাহিছে হিয়া পুরাতন ক্লান্ত বরফের সর্বশেষ গান "۔۔۔۔(রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর )
নববর্ষ উদযাপনের সাথে যদিও আবহমান গ্রাম বাংলার নিবিড় সম্পর্ক রয়েছে ,তবে বর্তমানে বর্ষবরণ উৎসবের আবেদন শহরগুলোতেও ছড়িয়ে পড়েছে l
নববর্ষ বাঙ্গালীর অনেকগুলির মধ্যে একটি সার্বজনীন উৎসব l বাঙালীরা এদিন পুরানো বছরের ব্যর্থতা ,নৈরাশ্য ,ক্লেদ ,গ্লানি ভুলে গিয়ে নতুন বছরকে মহানন্দে বরন করে নেয় _ সমৃদ্ধি ও সুখময় জীবনের প্রাপ্তির প্রত্যাশায় l
নববর্ষের প্রেরণায় বাঙ্গালী নতুন করে উদজীবিত হয়ে ওঠে l নিজস্ব ইতিহাস ,ঐতিহ্য ,সংস্কৃতি ,
প্রথা ,আচার অনুষ্ঠান সম্পর্কে সচেতন হয়ে ওঠে l
নববর্ষ দোকানী ও ব্যবসায়ীদের জন্য নিয়ে আসে শুভ হালখাতা অনুষ্ঠান l বিভিন্ন পত্র পত্রিকা বের করে বিশেষ নববর্ষ সংখ্যা l বর্ষবরণ ,নববর্ষ বা হালখাতা যাই বলিনা কেন ,এটা আমাদের জাতীয় জীবনে ও সংস্কৃতিতে এক আনন্দঘন শুভ দিন l


2 Comments
নব রুপে আসুক নববর্ষ
ReplyDeleteখুব সুন্দর
ReplyDelete