ড: বিরাজলক্ষ্মী ঘোষ


" দ্বিতীয় প্রকৃতি ও পরিবেশ"
   
   ড: বিরাজলক্ষ্মী ঘোষ

সৃষ্টির আদি কাল থেকেই নারী দ্বিতীয় প্রকৃতি নামে পরিচিত।প্রথম প্রকৃতি এখানে পুরুষ। অর্থাৎ মানব জগতের সূচনা লগ্ন থেকেই নারী কিন্তু অজান্তেই দ্বিতীয় প্রকৃতি হিসেবে স্থান পেয়েছে।কে বা কি পরিস্থিতি তার জন্য দায়ী সে প্রসঙ্গে যাচ্ছিনা বরং কিভাবে নারী নারী বারে বারে প্রকৃতি অর্থাৎ প্রাকৃতিক সম্পদ কে রক্ষা করেছে এবং পরিবেশের সঙ্গে তার আত্মিক সম্পর্ক কে তুলে ধরেছে সেটি আলোচ্য বিষয়।
বস্তুত একজন নারী পরিবেশ সুরক্ষার প্রাথমিক দায়িত্ত্ব গুলো কাঁধে তুলে নেয়।পরিবেশগত সুস্থতা সংরক্ষণে তার ভূমিকাকে কয়েকটি দিক থেকে আলোচনা করা যেতে পারে।
১. ঘরণী রূপে নারী তার ঘর গৃহস্থালী পরিচ্ছন্ন রাখার প্রাথমিক দায়িত্ত্ব নিয়ে থাকে।সে তার বাসৃ গৃহ পরিষ্কার করার মাধ্যমে তাকে দূষণমুক্ত ও সকলের বসবাসের উপযোগী করে।
২.শিশু তার প্রাথমিক স্বাস্থ্যের পাঠ পায় তার মার কাছে।সে মার কাছ  তার গৃহ এবং পারিপার্শ্বিক পরিবেশ সম্পর্কে ধারণা পায়।শিশুকে মা শারীরিক পরিচ্ছন্নতা,আহার ও বসবাসের রীতি নীতি, সুস্থ ভাবে  বাঁচবার নীতি, স্বাস্থ্যসম্মত জীবন বিধান সম্পর্কে ধারণা দেয়।
৩.পরিবারের অভ্যন্তরে থেকেই সে পরিবারের সমস্ত সদস্যদের আবাসগৃহের চারপাশ দূষণ মুক্ত রাখার শিক্ষা দেয়।
৪.দেখাযায় বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই নারী পরিবার পরিকল্পনা কর্মসূচী নিতে পুরুষকে সাহায্য করে।এভাবে সে পরিবেশ গত ভারসাম্য রক্ষার ব্যাপারেও সচেষ্ট হয়।কারণ দ্রুত বর্ধিত জনসংখ্যা পরিবেশের ওপর অস্বাভাবিক চাপ সৃষ্টি করে।
৫.নারী তার মমতাময়ী ভূমিকার মাধ্যমে সামাজিক ও তৎজনীত পরিবেশ দূষণ মূলক কাজ থেকে পুরুষদের বিরত রাখে।বিভিন্ন সময়ে পৃথিবীর বিভিন্ন প্রান্তে সে সমজা ও পরিবেশ কে অবক্ষয়ের হাত থেকে বাঁচাবার জন্য গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিয়েছে।
৬.নারী বস্তুত গৃহপালিত পশুদের পালন করার দায়িত্ব নিয়ে থাকে ।এ কারণেই সে গোচারণ ভূমি,অরণ্য ও গাছগাছালি কে রক্ষা করে ।এতে জীব বৈচিত্র্য ও বনভূমি সুরক্ষিত থাকে।
৭.বর্তমান জনগণতন্ত্রের যুগে নারী তার গণতান্ত্রিক অধিকার কে সামনে রেখে পরিবেশ সুরক্ষার কাজে নেমেছে।সে তার সজাগ সচেতন মানসিকতা ও আগ্রহ দ্বারা পরিবেশকে রক্ষা করে।পরিবেশ বাদী আন্দোলনে নারী দের অংশগ্রহন পুরুষদের ছাপিয়ে গাছে।
এভাবে নারী বিভিন্ন সময়ে নিজেকে পরিবেশ রক্ষার কাজে নিয়োজিত করেছে।
 ভারতবর্ষে প্রবেশ সংরক্ষণে দ্বিতীয় প্রকৃতির বহু ভূমিকা জাজ্বল্যমান। তারাই অরণ্য ধ্বংস,জীব বৈচিত্রের ধ্বংস সাধন,জলাসোয়ের ক্ষতি সাধন,বন্যপ্রাণী উচ্ছেদ,জলাভূমির ধ্বংস সাধন ইত্যাদির বিরুদ্ধে বহু পরিবেশ বাদী আন্দোলনে সামিল হয়েছে।এগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হল চিপকো আন্দোলন,অপিকো আন্দোলন,নর্মদা বাঁচাও আন্দোলন, তেহরি বাঁধ প্রকল্প বিরোধী আন্দোলন,সাইলেন্ট ভ্যালি আন্দোলন, থাল বাইসেট আন্দোলন ইত্যাদি।এখানে নেতৃত্ব দানকারী নারীদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলেন সরলা বেন,মিরা বেন,মেধা পাটেকার, কিরণ বেদী,অনুরাধা তালোয়ার প্রমুখ।এরাই ভারতের জনগনকে সুস্থ জনজীবন দানের উদ্দেশ্যে পরিবেশ সংরক্ষণ মূলক কর্মনীতি কে সক্রিয় ও সুদৃঢ় করেছেন।
এর ফলে যে বিভিন্ন দিক গুলি উঠে এসেছে  তা হলো:
১.এগুলি ভারতীয় নারীকে সমাজ রাজনৈতিক মঞ্চে দৃঢ় আসন দিয়েছে।
২.ভারতীয় নারী নিজের পায়ে স্বাধীন ভাবে দাঁড়াবার শক্তি ও সামর্থ্য অর্জন করেছে।
৩.এগুলি নারীর সাংগঠনিক সামর্থ্য ও আন্দোলন মুখী আচরণকে উজ্জীবিত করেছে।
৪.বার বার নারী প্রমাণ করেছে যে প্রকৃতিকে সুরক্ষিত করার ব্যাপারে তার একক ভূমিকাই যথেষ্ট।
৫.অর্থনৈতিক ও অসাধু প্রবণতার বিরুদ্ধে অহিংস ও ঐক্যবদ্ধ গণসংগ্রাম পরিচালনা করে নারী সকল মানুষ,প্রাণী ও গাছগাছালির সুস্থ জীবনকে ত্বরান্বিত করতে সক্ষম এটি প্রমাণ করেছে ।
৬.এই আন্দোলন গুলি ভারতীয় নারীদের কঠোর ও দৃঢ় মানসিক ও সিদ্ধান্ত গ্রহণ ক্ষমতার পরিচয় দিয়েছে।
ভারতীয় নারী এর মাধ্যমে সারা বিশ্বে পরিবেশ সংরক্ষণকারী রূপের নারীদের ভূমিকার অপরিসীম গুরুত্বকে তুলে ধরেছে।এবং পরিবেশ রাজনীতিতে সে তার সুমহান ঐতিহাসিক  বিশেষত্ব কে তুলে ধরেছে।।

"Mild , gracious, sweety odorous,milky with nectar in her breast,
My Earth,may Prthivi besto her benison,with milk, on me." ।।59।।
Atrarva Veda12.1-63.

Post a Comment

4 Comments

  1. প্রসঙ্গিক দৃৃৃষ্টিভঙ্গি
    সমৃৃৃদ্ধ কলম

    ReplyDelete
  2. একদম স্বতন্ত্র এবং উদ্ভাবনী লেখা। বেশ ভালো লাগল।

    ReplyDelete
  3. ভীষণ ভালো লাগলো

    ReplyDelete