সেও আছে
মঙ্গল মিদ্যা (রিপল)
শহরের থেকে নাকি গ্রামে বেশি ভূত থাকে। আমি একটা কারণ বলতে পারি ভূত তো গাছে বেশি থাকে আর গ্রামে গাছের অভাব নেই তাই।
গ্রামের নাম জয়রামপুর। কয়েকজন মিলে ঠিক করেছে 24 ডিসেম্বর গভীর রাতে গ্রামের প্রতিটা বাড়ির সামনে একটা করে শুভেচ্ছা কার্ড নিজেদেরই হাতে তৈরি খামে ভরে আর রঙীন কাগজ কেটে ছোটোবেলায় শেখা ঝাড়ণ মতো করে প্লাস্টিক কাগজে মুড়ে রেখে আসা। পরেরদিন ২৫ ডিসেম্বর বাড়ি বাড়ি গিয়ে এক টুকরো কেক্ দেওয়া। সেই মতো ২৪ডিসেম্বর সারাদিন উপহার সাজাতে আর সন্ধেতে ফিস্টির কাজে বসে গেলো কার্তিক, বাবু, দেবা, সুরো, অমিত আর প্রিয়া। খামের উপরে ডিজাইন, নাম ও শুভেচ্ছাবার্তা লেখার কাজ পড়লো প্রিয়ার উপর। সন্ধে থেকে ফিস্টি শেষে রাত ১২টার দিকে বাড়ি বাড়ি যাবে। ইয়াং ছেলেরা ফিস্টি করবে আর ড্রিংক করবে না এটা হয় নাকি। ছোটো বোতল নিয়ে আসলো তবে প্রিয়াকে লুকিয়ে। রাত তখন ৯:৩০মিঃ নিরালা জায়গায় তখন ফোনে গান চালিয়ে নাচ আর রান্না চলছে। তারা তাদের হাসি ঠাট্টার মাঝে অস্বাভাবিক কিছু অনুভব করছে কিন্তু তেমন কিছু ঘটছে না সবই ঠিকঠাক। গ্রামের শীতের রাত তাই একটু চুপচাপ। রাত ১০টা প্রায় বাড়িতেই আলো নিভে গেছে। এদের রান্নাও প্রায় শেষ হঠাৎ একটা চেনা স্বর " হ্যা রে আমাকে তোদের ফিস্টিতে নিবি না? " সবাই চমকে তাকিয়ে কারোকেই দেখতে পায় না। আবার সেই স্বর " এদিকে তাকা "!! শব্দ বুঝে সবাই তাকাতে দেখতে পেলো তাদেরই বয়সী তাদেরই পাড়ার ছেলে সুমিত। কিছু বোঝার আগেই সবার মাথায় খেলে গেলো সুমিত তো মারা গেছে দুবছর আগে চেন্নাইতে কাজে গিয়ে জ্বর গায়ে ফিরে আসলো তারপরে এখানেই...
সুমিতকে দেখে ভয় আর উৎকন্ঠায় দিশেহারা অবস্থা। কখনও হঠাৎ ভূত দেখলে আপনিও বুঝবেন কিহয়। সুমিত আবার বললো - " ভয় পেলে মেরে দেবো কিন্তু, ছোটোবেলায় সবাই কতো সময় কাটিয়েছি মনে পড়ে তোদের "? এই কথাটা শুনে সবার মনে ছোটোবেলায় স্মৃতিগুলো যেনো ভেসে ওঠে। সুমিত আরো বলে - " চেন্নাইতে তোদেরকে ছেড়ে খুব কস্টে থাকতাম, এখন তোরা আমাকে হয়তো ভুলে গেছিস কিন্তু আমি তোদেরকে খুব মিস্ করি জানিস, প্রথম বন্ধু বলতে তোরাই তো। " প্রিয়ার কান্নার গোগানির মৃদু শব্দ শোনা গেলেও বাকিরা ভেতরে ভেতরে কাঁদছে তা চোখের জলই বলে দিলো। নিমেষে সুমিত আর নেই, সবাই ব্যাকুল হলো সুমিত কই। একটা মৃদু শব্দ কানে এলো " আমাকে খুঁজিস না, আমি তোদের সাথেই আছি। "
সবার চোখের জল হয়তো সুমিতকে মুক্তি দিয়েছে। ফিস্টির খাবার ছজন খেলেও পাশে আলাদা আরো একজনের জন্য রাখলো তারা। সবাই একত্র হলে সুমিতের কথা ভোলে না।


10 Comments
দেখলুম
ReplyDeleteঅপূর্ব লিখেছ
ReplyDeleteধন্য(বাদ)
Deleteভীষণ ভালোলাগা
ReplyDeleteধন্য(বাদ)
ReplyDeleteঅপূর্ব সুন্দর লেখা
ReplyDeleteবাহ্ বেশ লাগলো গল্পটা।
ReplyDeleteভীষণ ভালো লাগলো ভাই
ReplyDeleteভীষণ ভালো লাগলো ভাই
ReplyDeleteভীষণ ভালো লাগলো ভাই
ReplyDelete